কলকাতা, ১৮ অক্টোবর : কলকাতার প্রতিটি পাড়া মণ্ডপসজ্জা, নানা রঙ আর উৎসবের আমেজে প্রাণবন্ত । এই রূপান্তরের মূল কারিগর হলেন সেই সব শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষ, যাঁরা তাঁদের ভাবনাকে এমন সব পরিসরে রূপ দেন যা মানুষকে একত্রিত করে। এই সৃজনশীলতা এবং যাঁরা একে বাস্তবে রূপ দেন, তাঁদের উদযাপন করাই ‘এশিয়ান পেইন্টস শারদ সম্মান’ (এপিএসএস)-এর মূল লক্ষ্য। এ বছর, ‘এশিয়ান পেইন্টস’ সেই ভাবনাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটি নতুন ফিল্মের মাধ্যমে; এই ফিল্মটি এমন কিছু সৃষ্টির আনন্দকে উদযাপন করে, যা মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়।

ছবির গল্পে দেখা যায়, একদল তরুণ বন্ধু একসঙ্গে মিলে নিজেদের পাড়ার পুজোমণ্ডপ তৈরি করছে। নিজেদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে তাদের শুনতে হয় এক পরিচিত প্রশ্ন—“এবার জিতবে?” মণ্ডপ তৈরির নেপথ্যে থাকা সৃজনশীলতা, নিষ্ঠা ও কল্পনাশক্তির স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই তরুণ স্রষ্টাদের মূল লক্ষ্য নিজেদের পাড়ার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু তৈরি করা।

গল্পে আবেগের নতুন মাত্রা যোগ হয়, যখন বহু বছর পর এক প্রবীণ ব্যক্তি কলকাতায় ফিরে আসেন। পুরনো পাড়ার অলিগলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি এসে পৌঁছন পুজোমণ্ডপে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি দেখেন মণ্ডপের কাজ, রঙের ব্যবহার এবং নতুন প্রজন্মের কল্পনাশক্তির ছোঁয়ায় কীভাবে বদলে গিয়েছে তাঁর চেনা পাড়া। তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই ফুটে ওঠে সব অনুভূতি—“মন জিতে নিল”।

বহু বছর ধরে ‘এশিয়ান পেইন্টস শারদ সম্মান’ সেই সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও কারুশৈলীকে উদযাপন করে আসছে, যা কলকাতার দুর্গাপুজোকে অনন্য করে তোলে। এই উদ্যোগটি প্যান্ডেল নির্মাণের নেপথ্যে থাকা মানুষদের এবং শহরের প্রাণসত্তায় তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। নতুন এই ফিল্মটি সেই ঐতিহ্যকেই এগিয়ে নিয়ে চলেছে; এতে তুলে ধরা হয়েছে যে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়াই হলো সবচেয়ে অর্থবহ স্বীকৃতি। এই প্রথমবার ‘এশিয়ান পেইন্টস’ পুজোর জগতকে জীবন্ত করে তুলতে অ্যানিমে-অনুপ্রাণিত দৃশ্যশৈলী ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে তারা তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি কলকাতার পাড়া-মহল্লা, সেখানকার মানুষ, সৃজনশীলতা এবং পুজোয় ঘরে ফেরার আবেগকে উদযাপন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *