শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ১০ জুলাই, কলকাতা :
অতি সম্প্রতি রাজ্য আরও একটি নৃশংস ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করল। সেই সাথে অভিযুক্ত সন্দেহে একজনকে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মারল। পরে জানা গেল মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সেই ছেলেটি নির্দোষ ছিল। শুধু সন্দেহ একটাই ছেলেটির গাড়িতে সন্দেহযুক্ত চারজন অভিযুক্ত ঘোরাফেরা করতো।
নতুন সরকার রাজ্যে আসার পরে এমন একটি ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলতে চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার এই ধরনের ঘটনাকে যে রাজনৈতিক রঙ না লাগিয়ে প্রকৃত বিচার করবেন সেটা ঘোষনা করলো।
অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গেলেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করলেন। আশ্চর্যজনকভাবে তারা কেউ কোন জনরোশের মুখে পড়লেন না। কিন্তু দলত্যাগী তৃণমূল সংসদ এবং বিধায়কেরা সাধারণ মানুষের কটুক্তি এবং গালিগালাজের মুখোমুখি হলেন।
কিন্তু এমনটা কেন করল, এটা কি পূর্বপরিকল্পিত যে দলত্যাগীরা ঘটনাস্থলে আসা মাত্র তাদের এইভাবে প্রতিবাদ করা হবে? নাকি সাধারণ মানুষ দলত্যাগের এই দৃষ্টান্তগুলোকে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না? দ্বিতীয়টি যদি প্রকৃত ঘটনা হয় তবে রাজনীতি যারা করেন তাদের সতর্ক হওয়ার সময় চলে এসেছে।
সাধারণভাবে সমাজমাধ্যমে যেভাবে যৌনতা এবং হিংসা প্রদর্শিত সিনেমা বা সিরিয়ারগুলো হয় এই ঘটনাগুলো সাথে কিন্তু সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর অনেকটাই মিল পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিকৃত মনস্ক বাংলা সিরিয়াল গুলোর উপরে টালিগঞ্জ পাড়া যেভাবে খর্গহস্ত হয়ে রয়েছে তাতে সেই দিকটা অনেকটা কম হবে, অথবা হবে না সে বিষয়ে কিছুটা হলেও মানুষ স্বস্তি বোধ করছে।
কিন্তু নাবালিকা, প্রাপ্তবয়স্কা বা বেশি বয়সের নারীকে যেভাবে যৌন নির্যাতন করা এবং তার পরবর্তীকালে তাকে নৃশংসভাবে খুন করে দেওয়া হচ্ছে সেগুলো বন্ধ করার অন্য একটি পদক্ষেপ হওয়া উচিত পর্ন সাইটগুলোকে এ রাজ্যে নিষিদ্ধ করা। এক্ষেত্রে একটি বড় সংশয় হচ্ছে, সদিচ্ছা থাকলেও সরকার কি পারবে এগুলোকে বন্ধ করতে? আমাদের প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রে কিন্তু এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রায় আমাদের মতই আকার আয়তন সে রাষ্ট্রের। তাহলে আমরা কেন পারব না? বর্তমানে সমাজমাধ্যমে এবং সমাজের অনেক স্তরের মানুষই এনকাউন্টারের উপর ভরসা রাখতে শুরু করেছে। তাতে হয়তো অনেকটাই সমস্যা সমাধান হবে বলে অনেকে আস্থা রাখছেন। কিন্তু সন্দেহের বশে বেকসুর মানুষ কিন্তু অনেকেই এই এনকাউন্টারের শিকার হতে পারে। সেদিকেও নজর রাখা উচিত।
