শ্রেয়া ঘোষাল
২য় পর্বের পর….
একটা ফটো দিয়ে যাবেন। সুকোমল ডায়েরি লিখছিল সাদা কাগজে। কাগজ, কলম সবই থানার অফিসারের থেকে চেয়ে নেওয়া। কিছু না ভেবেই চলে এসেছি। অফিসার এক বার চোখ বুলিয়ে নিয়ে, স্ট্যাম্প দিয়ে একটা রসিদ মতো করে দিলেন। শেষ কখন দেখেছেন, কি পোশাক পরে ছিল, সব লিখবেন। বন্ধুবান্ধব, চেনা পরিচিতদের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বারের একটা লিস্ট বানিয়ে দিয়ে যাবেন। কাল থেকে সম্ভব, অসম্ভব সব জায়গাতেই ফোন করে দেখেছি। কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম একদম বসে গেছে গলা। থানার অফিসার অবশ্য আমার কথায় তেমন গুরুত্ব দিলেন না।
‘কোনো ঝগড়াঝাটি হয়েছিল?’ আমি আর সুকোমল দ্রুত দৃষ্টি বিনিময় করে নিলাম। অফিসার বললেন কি, মেয়ের প্রেমিক কে মানতে পারছিলেন না? সুকোমল একটু থেমে বললো মা বেঁচে এখনও। অষ্টআশি রানিং। ছেলেটা মুসলমান। শপিং মলে কাজ করে, সু পিএইচ ডি করছে স্যার। নেট ক্লিয়ার করে। পার্মানেন্ট হাত তুলে থামিয়ে দিলেন অফিসার। গায়ে হাত তুলেছিলেন? সুকোমল চোখ নামিয়ে বললো, একটাই মেয়ে স্যার। দাদার ছেলে গ্রীনকার্ড পেয়ে গেছে। ওদের দিকেও ওরকমই। ছাব্বিশ বছর বললেন তো মেয়ের বয়স। ঠিক আছে আসুন এখন। খবর পেলে জানাবো।’ বেরিয়ে এসে সুকোমল থ্যাক করে রাস্তায় মাঝখানে একদলা থুতু ফেলে বলেছিল, শালা একবার যদি পাই, ওকে খুন করে দরকার হলে লাইফার হয়ে থেকে যাবো কয়েদখানায়। তোমার ঐ দু-পয়সার চাকরির জন্যই এইসব। রোজ সেজেগুজে অফিস, ফেশিয়াল, বিউটিপার্লার, এই মিটিং ঐ ট্যুর। মেয়েটা যে জাহান্নমে যাচ্ছে চোখের ওপর দিয়ে, শালা। তিনদিন ধরে এই এক কথা শুনে শুনে আমিও পাথর। তাছাড়া গলাটা সত্যি এত বসে গেছে। একটু চা খেয়ে আসছি। তুমি ঘুরিয়ে আনো গাড়িটা ততক্ষণ, মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
ক্রমশ……
