ওয়েব ডেস্ক; ২ মার্চ : কলকাতায় আইসিএআর-এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। পাটক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা, ধারাবাহিক কৃষি এবং মৎস্যচাষের মাধ্যমে গ্রামীণ বিকাশ নিয়ে সেখানে মূলত আলোচনা হয়।

কলকাতার এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী পাটশিল্পের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিশেষত কাঁচা পাটের গুণমান, বিআইএস-ভিত্তিক গ্রেডিং এবং জলের অভাবে কৃষকদের অসুবিধার দিকগুলি নিয়ে বিশেষভাবে পর্যালোচনা করেন। গ্রেডিং-এর ক্ষেত্রে নির্ভুল প্রণালী, ন্যায্য মূল্য এবং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি নিয়ে বিশদে মতবিনিময় হয় ঐ বৈঠকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাটপণ্যে আরও বৈচিত্র্য নিয়ে আসা এবং রপ্তানি প্রসারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মূল্য সংযুক্ত পাটপণ্য কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সহায়ক হবে এবং সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক তন্তুর বাজারে ভারতের অবস্থান জোরদার করবে। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন – মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি পরিসরে দেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পমহল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আরও সমন্বয়ে জোর দেন তিনি।

ধারাবাহিক কৃষির বিষয়টি জোরদার করতে এবং জলের অভাব দূর করার লক্ষ্যে দক্ষ জল ব্যবস্থাপনা এবং জল সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতির ওপর জোর দেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। উপযুক্ত উদ্ভাবনমূলক প্রযুক্তির প্রয়োগে তন্তুর গুণমান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

পূর্ব ভারতে গ্রামীণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রে মৎস্যচাষ ক্ষেত্র বড় ভূমিকা নিতে পারে এবং সেই জন্য কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলিতে মাছ চাষ, জলাভূমি সংক্রান্ত পরিবেশ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে জোর দিয়েছেন।

বৃত্তীয় অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে চৌহান বলেন, কৃষিজ ও শিল্পকর্মজাত বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করতে হবে। এই বিষয়টি ধারাবাহিক গ্রামীণ বিকাশ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাকৃতিক তন্তু সংক্রান্ত গবেষণা, মৎস্যচাষ এবং কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কলকাতায় আইসিএআর যে প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করছে, বৈঠকে প্রধানত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই মতবিনিময় করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী।

এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে :
আইসিএআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারাল ফাইবার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএনএফইটি)
আইসিএআর-সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড অ্যালায়েড ফাইবার্স (সিআরআইজেএএফ)
আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইএফআরআই)
আইসিএআর-এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি অ্যাপ্লিকেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এটিএআরআই), জোন-৫

প্রাকৃতিক তন্তু সংক্রান্ত গবেষণার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলি উন্নততর প্রজাতির পাট তৈরি করা, মৎস্যচাষ ব্যবস্থাপনা এবং এই অঞ্চলের কৃষকদের অত্যাধুনিক নানান কৃষি প্রযুক্তির বিষয়ে অবহিত করে থাকে।

কৃষিক্ষেত্রে গবেষণা, কৃষকদের সহায়তা এবং উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আবার উল্লেখ করেন।