ওয়েব ডেস্ক; ১০ আগস্ট: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ পুদুচেরি পুলিশকে ‘প্রেসিডেন্টস কালারস’ প্রদান করেছেন। এই অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর কে. কৈলাশনাথন এবং পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গস্বামী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিজের ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যে, পুদুচেরি দক্ষিণ ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক। আজ পুদুচেরি পুলিশ দেশের সেইসব পুলিশ বাহিনীর তালিকায় যুক্ত হলো যারা ‘প্রেসিডেন্টস কালারস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছে। পুদুচেরি পুলিশকে এই সম্মান প্রদান তাদের সাহস, কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠারই প্রমাণ।
অমিত শাহ বলেন, ‘প্রেসিডেন্টস কালারস’ প্রাপ্তি যেকোনো পুলিশ বাহিনীর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মুহূর্ত। পুদুচেরির সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব পুদুচেরি পুলিশের ওপর ন্যস্ত। কঠোর পরিশ্রম, বীরত্ব, সেবা এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ পুদুচেরি পুলিশ এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান লাভ করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফরাসি শাসনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও পুদুচেরি তার ভারতীয় সত্তা ও আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তিকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ১৯৬৩ সালের ১লা অক্টোবর পুদুচেরিতে ‘ডাইরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ’ (ডিজিপি) বা পুলিশ মহাপরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয় এবং তখন থেকেই পুদুচেরি পুলিশ এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করে আসছে।
অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার ব্রিটিশ আমলের দণ্ডবিধি বা পেনাল কোডগুলোর পরিবর্তে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন প্রবর্তন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নতুন আইনগুলো কেবল শাস্তিমূলক নয়; বরং এগুলোর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি-নির্ভর ও সময়বদ্ধ পদ্ধতিতে নাগরিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। নতুন ফৌজদারি আইনগুলো তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে: প্রযুক্তি, সময়সীমা এবং বিশ্বাস।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১২ বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জানান, এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে শক্তিশালী করতে এবং পুদুচেরির জনগণের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তিনি জানান যে, ২,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় মহাসড়ক ৩৩২-এ-কে চার লেনে উন্নীত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মোদী সরকার এখানে প্রায় ৩,৪০০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৫ মিটার চওড়া একটি বর্ধিত রানওয়ে নির্মাণ করেছে।
অমিত শাহ বলেন, ১৯৫০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারত সরকার পুদুচেরির উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মাত্র ৩,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। অন্যদিকে, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোদী সরকার পুদুচেরির উন্নয়নের জন্য ১৩,৭৬২ কোটি টাকা প্রদান করেছে, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। তিনি জানান, গত নয় বছরে ভারত সরকার পুদুচেরিতে ৩৯,০০০ কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগের পথও সুগম করেছে। পুদুচেরির নাগরিকরা ‘লাখপতি দিদি’, ‘জল জীবন মিশন’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’, শৌচাগার নির্মাণ, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ প্রকল্প, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ এবং ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (ডিবিটি)-এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার পুদুচেরির উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এখানকার জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকতে প্রস্তুত।
