ওয়েব ডেস্ক; ১৪ অক্টোবর : গ্রামীণ উদ্যোগপতিদের বিকাশ এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক রুডসেটি-র ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি-র সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র বিনিময় করেছে। দেশের গ্রামীণ স্বনিযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রশিক্ষণের অভিন্ন মানদণ্ড চালু করা, প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুণমান উন্নত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য।
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব রোহিত কানসালের উপস্থিতিতে সমঝোতাপত্রটি বিনিময় করা হয়। এতে গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের দক্ষতা বিভাগের যুগ্মসচিব এস. শশীকুমার এবং রুডসেটি-র ন্যাশনাল অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক রাজু এন. কোরি অংশ নেন।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় ‘কৌশল পঞ্জি’-র মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্নত করা হবে। পাশাপাশি, আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থার মাধ্যমে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালু করা হবে। গ্রামীণ স্বনিযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রশিক্ষণের গুণমান ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক – এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক প্রশিক্ষণ পাঠক্রম চালু করা হবে। শিল্পক্ষেত্রের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সহায়ক উপকরণ ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে মূল উদ্যোগপতি বিকাশ কর্মসূচির প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
এছাড়া, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়ন এবং শংসাপত্র প্রদানের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এই কাজে ‘ইউনিফায়েড পোর্টাল’ ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রকের নির্ধারিত সাধারণ বিধি ও মানদণ্ড যথাযথভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে।
চলতি বছরে গ্রামীণ স্বনিযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে মোট ৬.৩৫ লক্ষ গ্রামীণ যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের আওতায় মহিলা, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের তুলনায় এ বছরের প্রশিক্ষণ লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের গুণমান বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থার প্রসার এবং ফলাফলভিত্তিক নজরদারি জোরদার করে গ্রামীণ স্বনিযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ গড়ে তোলার সঙ্গে টেকসই জীবিকার সুযোগের সংযোগ আরও দৃঢ় করার মাধ্যমে গ্রামীণ যুবক-যুবতীদের সফল ও স্বনির্ভর উদ্যোগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাই এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ স্বনিযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোগপতি গঠন এবং জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দক্ষতা অর্জন, নতুন উদ্যোগ স্থাপন এবং সুস্থায়ী জীবিকার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের বৃহত্তর কর্মসূচির সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি অবদান রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *