ওয়েব ডেস্ক; ৩ অক্টোবর : প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ জয়সলমীরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকীকরণ’ সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন। সেখানে বর্তমানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সমর প্রকৌশল, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশজ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং এক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে সেখানে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ, সমন্বয়, সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলিও অগ্রাধিকার পেয়েছে।
বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মনে করিয়ে দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এ সংক্রান্ত কর্মসূচির মূল ভিত্তি হ’ল – ‘বাজেট এবং মূলধন সংগ্রহ ও স্বনির্ভরতা’ ‘প্রযুক্তি’ ও ‘মানবসম্পদ’। ২০২৬ – ২০২৭ এ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে আধুনিকীকরণ ও মূলধন সংগ্রহ বাবদ রাখা আছে ২.১৯ লক্ষ কোটি টাকা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, ২০১৪ – ২০১৫ অর্থবর্ষে দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের মূল্যমান ছিল ৪৬ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। ২০২৫ – ২০২৬ এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানীর মূল্যমান ২০১৪’তে ছিল ২ হাজার কোটি টাকা। তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৯ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের মূল্যমান ৩ লক্ষ কোটি টাকায় এবং তা রপ্তানীর মূল্যমান ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিকাশের প্রসঙ্গে তিনি ডিআরডিও’র ভূমিকা তুলে ধরেন। এই খাতে বেসরকারি সংস্থা, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং প্রমুখ।
