ওয়েব ডেস্ক; ২ নভেম্বর : বায়ুসেনার স্কুলগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত দক্ষতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এয়ার ফোর্স স্কুলগুলিকে স্ক্রোলকন্ট্রোল নামক একটি সমন্বিত শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার এডুকেশনাল এন্ড কালচারাল সোসাইটি,এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেন্টার ফাউন্ডেশন (আইএসএসি)-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস পালনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের ৪২টি এয়ার ফোর্স স্কুলের মোট ২৬১ জন শিক্ষক সাইবার ক্রাইম ইন্টারভেনশন অফিসার হিসেবে শংসাপত্র পাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হল শিশুদের অনলাইন প্রলোভন ও বিপথে চালিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, অনলাইন গেমিং-সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাব এবং আর্থিক প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখা। পাশাপাশি, প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা যাতে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে পারেন এবং সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সহায়তাকারী হিসেবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেই দক্ষতাও তাঁদের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

বর্তমানে সুলভে উচ্চগতির ইন্টারনেট, স্মার্ট ডিভাইস এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতার কারণে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ব্যাপকভাবে এমন অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল জগতের সংস্পর্শে আসছে। মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের কথা মাথায় রেখেই তা তৈরি করা হয়েছে। সাইবার জগতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (সিবিএসই) তার অধীনস্থ স্কুলগুলিকে প্রতি মাসে সাইবার জাগরুকতা দিবস পালন করে থাকে।এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তার সর্বোত্তম পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে প্রশিক্ষিত নিজস্ব কর্মীগোষ্ঠীর সাহায্যে এয়ার ফোর্স স্কুলগুলিতে এই নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে।

স্ক্রোলকন্ট্রোল কর্মসূচির মাধ্যমে এয়ার ফোর্স স্কুলগুলি স্কুলে সাইবার ক্লাব গঠন, শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে শংসাপত্র প্রদান, অভিভাবক ও স্কুলের কর্মীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন, পরিবারের জন্য বয়স-উপযোগী ডিজিটাল বিষয়বস্তু নির্ধারণের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ এবং স্কুলগুলিকে সাইবার সেফ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

এই কর্মসূচির অধীনে আইএসএসি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শংসাপত্র প্রদান, তাঁদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাইবার অপরাধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এই সহায়তা ব্যবস্থায় সাইবার আইনজীবী, সাইবার মনোবিদ এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বহুমুখী বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *