ওয়েব ডেস্ক; ১৫ সেপ্টেম্বর: কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূবিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং নতুন দিল্লির ব্রিক-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যান্ট জিনোম রিসার্চ (ব্রিক-এনআইপিজিআর)-এ “স্পিডসিড ফেনোটাইপিং অ্যান্ড রিসোর্স অপটিমাইজেশন ফর ইউনিফাইড ট্রেইট অ্যানালাইসিস” (স্প্রাউট) কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন। তিনি এটিকে বিভিন্ন আবহাওয়ার উপযোগী জলবায়ু-সহনশীল ফসল উদ্ভাবনের জন্য দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শ্রীসিং বলেন, ভারতের মতো ভৌগোলিক এবং কৃষি-জলবায়ুগতভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশে, কৃষি সহনশীলতা শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পরিবেশগত পরিস্থিতিতে ফসলের সমীক্ষা ও মূল্যায়ন করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ বৃহত্তর বায়ো ইথ্রি নীতি এবং মোদী সরকারের জৈবপ্রযুক্তি উদ্যোগের একটি অংশ, এর আওতায় উদ্ভিদ জৈবপ্রযুক্তি এবং মানব জৈবপ্রযুক্তি উভয় ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী অগ্রগতি হচ্ছে। বায়ো ইথ্রি নীতিতে জলবায়ু-সহনশীল কৃষিকে তার কৌশলগত বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ব্রিক-এনআইপিজিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক মনোজ প্রসাদ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ডঃ জিতেন্দ্র সিং স্প্রাউট ফেসিলিটির উদ্বোধন করেন এবং “এক পেড় মা কে নাম” কর্মসূচির আওতায় একটি চারাগাছ রোপণ করেন। ব্রিক-এনআইপিজিআর-এর বিজ্ঞানী ও আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
ঋতু-নিরপেক্ষ, নিয়ন্ত্রিত-পরিবেশের স্প্রাউট-এ উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ফিনোটাইপিং, নির্ভুল স্ট্রেস স্ক্রিনিং এবং জার্মপ্লাজম, ব্রিডিং পপুলেশন, মিউট্যান্ট, ট্রান্সজেনিক ও জিনোম-সম্পাদিত লাইনের মূল্যায়নের করা যায়। প্রধানত ছোলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই কেন্দ্র জিনোমিক্স এবং জিনোম সম্পাদনার অগ্রগতিকে নির্ভুল বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন এবং প্রজননের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সাহায্য করবে। এটি জিন আবিষ্কার থেকে বৈশিষ্ট্য যাচাইকরণ এবং পরিশেষে ফসলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
এই কেন্দ্রটি এমন এক সময়ে চালু হলো যখন জলবায়ু পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল ধরন দ্রুততর কৃষি সমাধানের প্রয়োজন সামনে এনে দিয়েছে। কৃষি জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষণার ফলে ধান, গম, তৈলবীজ, ডাল, বাজরা, ফল এবং শাকসবজি সহ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসলগুলির উন্নত জাত ও জিনোটাইপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, উদ্ভিদ-মাইক্রোবায়োম সংযোগ নিয়ে কাজ, উপকারী অণুজীবদের জন্য ফসলের উৎপাদনশীলতা, মাটির স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, আধুনিক জৈবপ্রযুক্তিকে অবশ্যই এমন প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে যা কৃষিক্ষেত্রে বাস্তব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে এবং কৃষকদের সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে, বিশেষ করে জিনোমিক্স, জিন প্রযুক্তি, প্রিসিশন ফেনোটাইপিং এবং অ্যাক্সিলারেটেড ব্রিডিং-এর ক্ষেত্রে, তা আগামী বছরগুলিতে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
এনআইপিজিআর ‘স্পিডসিড’ (SpeedSeed) নামে একটি পৃথক প্রযুক্তিও তৈরি করেছে। ছোলায়, অপ্টিমাইজড প্রোটোকল প্রজন্ম চক্রকে প্রায় ৪০ দিনে নামিয়ে আনতে পারে, যা প্রচলিত প্রজনন এবং গবেষণার সময়সীমাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করে। এই প্রযুক্তিটি স্প্রাউট (SPROUT)-এর মধ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা অন্যান্য উপযুক্ত নিয়ন্ত্রিত-পরিবেশের সুবিধাগুলিতে অভিযোজিত করা যেতে পারে। একত্রে, স্প্রাউট এবং স্পিডসিড সম্ভাবনাময় ফসলের বৈশিষ্ট্যগুলির মূল্যায়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
গত বারো বছরে, জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ ভারতের কৃষি জৈবপ্রযুক্তি পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, কৃষি জৈবপ্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে ৩০০টিরও বেশি প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ধান, গম, ছোলা, সরিষা, শাকসবজি এবং বনজ প্রজাতি মিলিয়ে খরা, বন্যা, লবণাক্ততা, কীটপতঙ্গ ও রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে বর্ধিত সহনশীলতাসহ ৫০টিরও বেশি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
একটি প্রধান সাফল্য হলো জিনোমিক্স-সহায়ক প্রজনন কর্মসূচির অধীনে ১৭টি জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা। এই জাতগুলো এখন প্রায় ১৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, উদ্ভিদ জৈবপ্রযুক্তি, মানব জৈবপ্রযুক্তি, জিনোমিক্স এবং অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে অগ্রগতির পাশাপাশি জৈবপ্রযুক্তি বাস্তুতন্ত্র একক প্রযুক্তি এবং গবেষণাগারের বাইরেও প্রসারিত হচ্ছে। দেশের জৈবপ্রযুক্তির যাত্রা উন্নত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং তার প্রয়োগের সমন্বয়ের দ্বারা চালিত হচ্ছে, যা কৃষি, স্বাস্থ্য, সুস্থিত উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে পারে।
তিনি জেনেটিক প্রযুক্তি এবং পুনর্ব্যবহার/চক্রাকার পদ্ধতির মতো ক্ষেত্রগুলিতে জৈবপ্রযুক্তির বৃহত্তর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, বৈজ্ঞানিক সাফল্য গবেষণাগার বা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি বিজ্ঞান যোগাযোগ ও জনসম্পর্কের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতির আহ্বান জানান।
তিনি বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগুলিকে সহজবোধ্যভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, কর্মশালা এবং পেশাদারভাবে নির্মিত ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টের অধিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের যোগাযোগ একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আগে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলি তুলে ধরতে পারে, বৈজ্ঞানিক হস্তক্ষেপ কীভাবে সেই প্রতিবন্ধকতাগুলির সমাধান করেছে তা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং প্রযুক্তিটি কৃষক, শিল্প এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের জন্য যে স্বস্তি বা সুবিধা এনেছে তা প্রদর্শন করতে পারে।
মন্ত্রী বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প অংশীদার, কৃষক ও অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে আরও জোরালো পারস্পরিক যোগাযোগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সভা এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে সরাসরি বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলের বাইরের মানুষদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া উচিত, যাতে বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের কাজ বুঝতে পারেন এবং সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করতে পারেন।
সিএসআইআর প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, নিয়মিত সভাগুলিকে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার মঞ্চ হিসেবে এবং বাইরের পক্ষগুলিকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি ব্রিক-এনআইপিজিআর এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুরূপ পদ্ধতি গ্রহণ করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনায় শিল্প অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে সংযুক্ত করতে উৎসাহিত করেন, যাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুফল বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের বাইরেও পৌঁছাতে পারে।
তিনি কৃষকদের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে পরিচালিত কাজ দেখার সুযোগ দেওয়ার গুরুত্বের উপরও জোর দেন। সিএসআইআর প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন যে, যে কৃষকরা আগে কখনও এই ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যাননি, তাদের মধ্যে সেখানে পরিচালিত কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, সরাসরি আলাপচারিতা ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ধরনের আশঙ্কা দূর করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন যে, বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তিতে যে প্রযুক্তিগুলি তৈরি হচ্ছে সেগুলি ভবিষ্যৎমুখী এবং আগামী বছরগুলিতে এগুলি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। ভারতীয় বিজ্ঞান কৃষক, শিল্প এবং সমাজের জন্য কী করছে, তার প্রচারে নিরন্তর প্রয়াসের আহ্বান জানান তিনি।
ডঃ সিং ব্রিক-এনআইপিজিআর-এর বিজ্ঞানী ও কারিগরি দলগুলিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সক্ষমতা ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর যাত্রাপথে অবদান রাখবে।
