ওয়েব ডেস্ক; ২৩ আগস্ট: এদিন কলকাতার জিআরএসই ভবন থেকে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ (জিআরএসই)-এর তিনটি এবং ‘যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (ওয়াইআইএল)-এর দুটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ‘ভূমি পুজা’ বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। এই প্রকল্পগুলিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা। কলকাতার খিদিরপুর, হাওড়ার শালিমার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চকে অবস্থিত জিআরএসই-র কেন্দ্রগুলি দেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে; অন্যদিকে, ইছাপুরে ওয়াইআইএল (ওয়াইআইএল)-এর ‘মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরি’-র প্রকল্পগুলি দেশীয় ধাতুবিদ্যা ও উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
নিজের বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্পগুলি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘আত্মনির্ভরতা’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ -এর ভাবনাকে আরও জোরদার করবে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী লালকেল্লা থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে শক্তির যে ‘সপ্তধারা’র কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে ‘রক্ষা শক্তি’ অন্যতম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, আমরা যখন একটি উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠছি, তখন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে অবশ্যই সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হতে হবে। আমরা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজস্ব কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এই ক্ষেত্রে পূর্ণ আধিপত্য অর্জন করতে হবে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, এই পাঁচটি প্রকল্প তারই প্রতিফলন।”
রাজনাথ সিং আরও বলেন যে, এই প্রকল্পগুলি কেবল প্রতিরক্ষা উৎপাদনই বৃদ্ধি করবে না, বরং হাজার হাজার মানুষের পাশাপাশি এমএসএম ই এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি যোগ করেন, “এক অর্থে, এই প্রকল্পগুলো পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ দেশীয় অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণ করেছে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ব ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে দেশের গবেষণাগার, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বেসরকারি অংশীদাররা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশীয় প্ল্যাটফর্মে সজ্জিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। তিনি আরও বলেন, “আত্মনির্ভরতা কেবল একটি নীতি নয়; এটি যুদ্ধক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় শক্তি। এই প্রচেষ্টায় জিআরএসই এবং ওয়াইআইএল-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে জিআরএসই-র প্রচেষ্টার প্রশংসা করে রাজনাথ সিং অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট ‘আইএনএস দুনাগিরি’-র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যা এই বছরের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেন, “জিআরএসই এ পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি জলযান নির্মাণ করেছে। এমনকি বর্তমানে নির্মাণাধীন পরবর্তী প্রজন্মের অফশোর পেট্রোল ভেসেল বা উপকূলীয় টহলদারী জাহাজগুলিতেও ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান থাকবে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা দ্রুত বিদেশি উৎসের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমিয়ে আনছি।” পাশাপাশি, ‘নবরত্ন’ মর্যাদা অর্জনের জন্য তিনি শিপইয়ার্ডটিকে অভিনন্দন জানান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়াইআইএল-কে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইছাপুরের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরির নতুন আধুনিক সুবিধাগুলি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও কৌশলগত যন্ত্রাংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠেছে এবং ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন করেছে। তিনি বলেন, “ওয়াইআইএল এমএসএফ ইছাপুরে ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। ১৯৭৬ সালের পুরনো ব্যবস্থাগুলি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ মানের নিখুঁত উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যা অস্ত্রশস্ত্রের দেশীয় উৎপাদনের পথে আমাদের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।”
রাজনাথ সিং আরও বলেন, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে জাতি যখন আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে উদ্ভূত ‘ক্যাপাসিটি প্যারাডক্স’ বা সক্ষমতা সংক্রান্ত বৈপরীত্যের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নৌ-বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণকারী দেশগুলোর সক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এর পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে জাহাজ নির্মাণ খাতের নকশা, উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে; আর এটি ভারতের সামনে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রথাগত জাহাজ নির্মাণকারী দেশগুলোর কাছে একসময় যে নকশা-সংক্রান্ত দক্ষতা ছিল তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তাই ভারতের উচিত তার প্রকৌশলী, আইটি পেশাজীবী এবং সিমুলেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-র ক্ষেত্রে থাকা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে জাহাজের নকশা তৈরি করা, পেটেন্ট নেওয়া এবং বিশ্ববাজারে তা রপ্তানি করা। উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, অত্যধিক খরচ এবং দক্ষ জনবলের অভাবের কারণে অনেক উন্নত দেশ শ্রম-নিবিড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প থেকে সরে আসছে; অথচ ভারতের রয়েছে দক্ষ জনশক্তি, শক্তিশালী ইস্পাত শিল্প এবং বলিষ্ঠ এমএসএমই পরিকাঠামো। তিনি শিপইয়ার্ড বা জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বমানের গুণমান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা আধুনিক করি এবং বিশ্বমানের গুণমান বজায় রাখি, তবে ভারত বিশ্বের পরবর্তী প্রধান জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল-কে সহজে অর্জনযোগ্য সুযোগ বা ‘লো-হ্যাংগিং ফ্রুট’ হিসেবে অভিহিত করে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, এর জন্য বিশাল মূলধনী বিনিয়োগ বা বিপুল জনবলের প্রয়োজন হয় না। তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ মেরামত ও ওভারহলের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এমআরও-র জন্য মূলত প্রয়োজন গুণমান, শৃঙ্খলা এবং সময়ানুবর্তিতা। আমরা যদি জাহাজ মেরামত ও ওভারহলের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তবে কেবল বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, বরং হাজার হাজার কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জিআরএসই-এর রায়চক কেন্দ্রটি ২০০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের যুদ্ধজাহাজ তৈরির ক্ষমতা জোগাবে এবং শিপইয়ার্ডটিকে পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার তৈরির দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি, হাওড়ার টিম্বার পন্ড এবং দামোদর কমপ্লেক্সের সুবিধাগুলি জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত সামগ্রিক উৎপাদন শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও জানান যে, ওয়াইআইএল-এর দুটি ফোর্জিং বা ধাতু-গঠন কেন্দ্র ভারী কামান, নৌ-বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য উচ্চমানের ধাতু উৎপাদন করবে, যা নৌ-বাহিনীর কর্মতৎপরতা ও প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করবে।
রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন যে, জাহাজ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে – বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, শিল্প ও এমএসএমই-গুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি জিআরএসই-কে তাদের বর্ধিত সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ -এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জোরালোভাবে প্রতিযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বস্ত গুণমান, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দেন যাতে পুনরায় অর্ডার পাওয়া যায় এবং ভারতকে একটি পছন্দের সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, “আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত নয় যে ভারত বিশ্ব থেকে কী কিনবে; বরং আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত বিশ্ব ভারত থেকে কী কিনতে চায় – তার ওপর।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই পাঁচটি প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতার কৌশলগত সম্প্রসারণের প্রতিফলন। তিনি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা , বেসরকারি শিল্প, এমএসএম ই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ‘ভূমি পুজো’র অনুষ্ঠানটিকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলো কেবল জিআরএসই এবং ওয়াইআইএল-এর ক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রেও এক নবজাগরণ ঘটাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং এমএসএমই-সহ আনুষঙ্গিক শিল্পগুলির জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল; প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগের সচিব সঞ্জীব কুমার; জিআরএসই-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমোডর পি আর হরি; ওয়াইআইএল-এর সিএমডি বিজয়কুমার আইয়ার এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগ, জিআরএসই ও ওয়াইআইএল-এর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয় সংযোজনটি হলো ‘রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট’, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ও পরবর্তী পর্যায়ের (আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম) পূর্ণাঙ্গ সুবিধাসমূহ দ্বারা সুসজ্জিত। ৪৭৩.৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ৩০ মাস মেয়াদী বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে নির্মিত এই প্ল্যান্টটি এমএসএফ ইছাপুরে অত্যাধুনিক ‘রেডিয়াল ফোর্জিং’ প্রযুক্তি প্রবর্তন করেছে। এটি সুপার অ্যালয় ফোর্জিং, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমার জন্য ফাঁপা টিউব, ভবিষ্যৎ সমরাস্ত্র ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন রেলওয়ে অ্যাক্সেল এবং পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ওয়াইআইএল-এর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
এই রেডিয়াল ফোর্জিং ইউনিটটিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’-এর মানদণ্ড, জ্বালানি-সাশ্রয়ী কার্যক্রম এবং অত্যন্ত নিখুঁত প্রকৌশল পদ্ধতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে, এটি বছরে প্রায় ৬৯ কোটি টাকা মুনাফা, ১০.৫৮% আইআরআর এবং প্রায় ৬ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ উঠে আসার (পে-ব্যাক পিরিয়ড) মতো আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৌশলগত ফোর্জিং পণ্য এবং রেলওয়ে পরিকাঠামোর যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, এই প্ল্যান্টটি দেশীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য একটি স্বনির্ভর ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
