শ্রী সমিরেশ্বর ব্রহ্মচারী

আমি একদিন একজনকে সরস্বতী পূজাতে জিজ্ঞাসা করলাম— আচ্ছা তোমাদের বাড়িতে এবার সরস্বতী পূজা হচ্ছে না কেন? উত্তর এল ঠাকুর, আমার ছেলের পড়াশুনা হয়ে গেছে। তাই এবার সরস্বতী পূজা হবে না। দেখুন— আমরা সরস্বতী দেবীকে কতটা ঘুষ দিতে চাই। এবার পূজা হবে না। কেন? কারণ বিদ্যা শেষ হয়ে গেছে। আবার, যদি পূজাই করে থাকি— তবে কী দিয়ে পূজা করি? দশকর্মার দোকান থেকে ছোট্ট ইনজেকশনের শিশিতে ঘি আনি, মধু আনি, ছোট্ট গামছা আনি। এরকম কত কি আনি। আচ্ছা, আপনাদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে: আপনারা দেবী সরস্বতীর কাছে স্টার মার্কস খুশি নন, লেটার মার্কস চান। যাঁর কাছে থেকে এত কিছু চাইছি তাকে ওই ঘি-মধুটা খেতে দিয়েছি। আচ্ছা একবার ওই ঘি-মধুটা তোমরা খেয়ে দেখো তো? সেটা ভগবানের খাওয়ার যোগ্য কি না? এইরকমই আমাদের ভক্তি। আমরা যা কিছু করি, যাকে শ্রদ্ধা করি, যাকে ভক্তি করি যাঁকে নিয়ে শ্রদ্ধা করি, সব উদ্দেশ্যই তিনি— আত্মানাং মোক্ষার্থে। এই কারণে মহাপুরুষগণ সর্বদা বলেন সদ্‌সঙ্গ কর। ঠিকই, আমাদের সব চাইতে আগে দরকার সদ্‌সঙ্গ। এই সদসঙ্গ একটা পেরেক। পেরেক কোনওদিন জলে ভাসতে পারবে না। কিন্তু ওই পেরেককে যদি সুন্দর একটা কাঠে বিদ্ধ করে জলে ফেলে দেওয়া যায় দেখবে কাঠের গুণে জলে ভাসছে। তাই আমরা সত্যিকারের সাধুসঙ্গ, বৈষ্ণবসঙ্গ যদি করতে পারি তবে ভগবানের সঙ্গ করতে পারবো। এই সদসঙ্গ করতে করতেই আমি দেখব সিদ্ধ হয়ে গেছি। যেমন। ছোলা কাঁচা থাকলে শুকিয়ে থাকে। জলে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুর গজিয়ে যায়, তারপর পাতা গজায়। তাই বিষয় সংসারে কামনায় ডুবে থাকলে কামনার ঝাড় গজিয়ে যায়। আবার ওই ছোলাকে সিদ্ধ করলে শাখা-অঙ্কুর কিছুই গজাবে না। আমরা যদি সত্যিকারের সঙ্গ করতে পারি তাহলে খাঁটি মানুষ হতে পারবো।

শেষ পর্ব