জোৎস্না রায়

টুংটাং-টুংটাং কলিং বেলটা পিয়ানোর সুরে বেজে উঠলো। মিসেস সোম একটা ফ্যাসান ম্যাগাজিন হাতে এইমাত্র সোফায় গা এলিয়েছেন। এক্ষুনি আর উঠতে ইচ্ছে করলো না, একরাশ বিরক্তি এসে ঘিরে ধরলো। সে একটু গলা তুলে রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে বললো, রা-নী দ্যাখতো এই অসময়ে কে এলো আবার। রানী ‘যাই বৌদিমনি’ বলে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে দরজাটা খুলে দিলো। একজন সুদর্শন যুবক দরজায় দাঁড়িয়ে।

শ্রমণা বিরক্তি ঝেড়ে ফেলে দরজার সামনে এগিয়ে এলে ছেলেটি হাত জোড় করে বললো, নমস্কার ম্যাডাম। অসময়ে আসার জন্যে খুবই দুঃখিত, আসলে আমি শুনেছিলাম এই সময় আসলে আপনাকে পাবো। সরি ম্যাম। শ্রমণা হাত তুলে ঠিক আছের ভঙ্গি করলো। ছেলেটি সাহস…. পেয়ে বলতে শুরু করলো, ‘আমার নাম রাজর্ষী ব্যানার্জী, আমি একটি প্রখ্যাত কোম্পানী থেকে আসছি। আমাদের কোম্পানীর নাম অবশ্যই শুনে থাকবেন। বলতে বলতে বুক পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে শ্রমণার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললো, “আমাদের কোম্পানী একটি নতুন উন্নতমানের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বাজারে আনছে এই সপ্তাহে। আমি একটু সেই প্রডাক্ট সম্বন্ধে কথা বলতে চাই। যদি অনুমতি দ্যান ম্যাডাম।’ বলে নিষ্পলক চোখে শ্রমণার দিকে তাকিয়ে রইলো।

শ্রমণা সুদৃশ্য ভিজিটিং কার্ডটার দিকে এক ঝলক চোখ বুলিয়ে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে ছিলো। ছেলেটার নাম রাখাটা উপযুক্ত হয়েছে। সত্যিই খুবই সুদর্শন চেহারা।
(ক্রমশ)