ওয়েব ডেস্ক; ২০ এপ্রিল : মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইন্সটিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ (MAKAIS), পশ্চিমবঙ্গের সহযোগিতায় এবং জাতীয় তফশিলি জাতি কমিশনের (NCSC) উদ্যোগে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আঞ্চলিক কথোপকথন’ অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য অংশীদাররা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক সচেতনতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনার জন্য একত্রিত হন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি প্রধান অতিথি হিসাবে এই অনুষ্ঠানটি অলঙ্কৃত করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তফশিলি জাতি কমিশনের (NCSC) চেয়ারম্যান ডঃ কিশোর মকওয়ানা, এনসিএসসি-র সদস্য ডঃ পার্থ বিশ্বাস এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা ডঃ স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের অধিকার রক্ষায় ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি এমন একটি সংবিধান প্রণয়নের জন্য বাবাসাহেব ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যা সকল নাগরিকের জন্য সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করে।

রবি সমাজের প্রান্তিক এবং বঞ্চিত শ্রেণীর মধ্যে সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি সামাজিক বৈষম্য দূর করার এবং সাংবিধানিক বিধানগুলিকে প্রতিটি নাগরিকের কাছে আরও সহজলভ্য ও বোধগম্য করে তোলার-ও আহ্বান জানান। তিনি অভিমত প্রকাশ করে বলেন, জাতি গঠনে বৃহত্তর জনঅংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি মর্যাদা, সাম্য এবং সুযোগের সাথে বসবাস করবে।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা সামাজিক ঐক্য ও সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে সমাজ থেকে বিভাজন দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ অপরিহার্য।
এই উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে “তপশিলি রত্ন সম্মান” প্রদান করা হয়, যেমন:
ডঃ নারায়ণ হালদার – শিক্ষাবিদ, দেবাশীষ বিশ্বাস – পর্বতারোহী, রবিন বল দেব – ক্রীড়াবিদ, গৌতম ব্রহ্ম, ডঃ বাসুদেব মণ্ডল – শিক্ষাবিদ
এই সেমিনারটি সামাজিক ন্যায়বিচার জোরদার করা, সাংবিধানিক সচেতনতার প্রসার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারদের অঙ্গীকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, যেটি ন্যায়সঙ্গত এবং উন্নত ভারতের সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *