শমিত মন্ডল
প্রথম পর্বের পর……
দেহটি একজন সুপুরুষের। আজানুলম্বিত বাহু, কাঁধ পর্যন্ত চুলের ঢল, নরুন- চেরা নাক, প্রশস্ত কপাল। অনেক সময় জলে ভিজে দেহটি কেমন সাদা হয়ে গেছে। লোকটার শরীরে একটুকরো কাপড়ও নেই। উরুতে একটা ছোট ক্ষত। হঠাৎ কেতকীর চোখে পড়ে দেহটির দুহাতে মোট তিনটি আংটি। একটি আবার রত্ন খচিত। কেতকীর চোখ লোভে চকচক করে। মৃতদেহ থেকে আংটি চুরি করলে কী এমন অপরাধ হবে। সে না নিলেও অন্য কেউ নেবে। দুখিনী এ নারী মাটি- পৃথিবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল। সূর্য-তাপিত আকাশের দিকে তাকিয়ে সে ক্ষমা ভিক্ষা করল গগণবিহারী দেবদেবী যক্ষ গন্ধবদের কাছে। অভাগি ক্ষমা ভিক্ষা করল এই মৃতদেহের কাছেও।দুটি আংটি ও অনায়াসেই খুলে নিল। কিন্তু সমস্যা হল তৃতীয় আংটিটি খোলার সময়। ডানহাতের অনামিকাতে আংটিটি এঁটে বসে আছে। একটু জোর খাটাতে হল। হ্যাঁ এবার আলগা হয়েছে। একটান দিতেই এঁটে বসা আংটি কেতকীর হাতে চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে
‘মৃতদেহে’র মুখ থেকে বেরোয় গোঙানির আওয়াজ। কেতকী ভয় পেয়ে দুপা পিছিয়ে আসে। ওরে বাবা, লোকটা এখনও বেঁচে আছে। কেতকী সবার শেষে খুলে নেওয়া আংটিটা আবার লোকটার আঙুলে পরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আংটিটা কিছুতেই আঙুলে গলানো যায় না। কেতকী ভয় পায়। ওর চোখে ভেসে ওঠে নগর- কোটালের ভয়ানক মুখচ্ছবি। নগর-কোটাল একবার দলবল নিয়ে কোথায় যেন চলেছিল। রাস্তার বাঁকে হঠাৎ মুখোমুখি। ত্রস্ত কেতকী দৌড়ে পালাচ্ছিল। লোকটা কর্কশ কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল— ‘বজ্জাত
মাগি, আমাকে প্রণাম না করে পালিয়ে যাচ্ছিস যে বড় ?’
ক্রমশ…….
