রিমা বিশ্বাস
২য় পর্বের পর…..
……….. চিঠির দু লাইন পড়তে চৌত্রিশ বছরের অনেক ঝড় ঝাপটা খাওয়া শক্তপোক্ত বুকের ভিতর কচি পাতার নরম পরশ অনুভূত হল। চিঠিটা আদ্যপ্রান্ত পড়ল রূপালী। কারো উদ্দেশ্যে লেখা। তার নামের উল্লেখ নেই। শুধু তাকে ভালোলাগার উল্লেখ আছে। পায়ের শব্দ পেতে কাগজটা দু’ভাঁজ করে বইয়ের ভিতর ঢুকিয়ে রাখল রূপালী।
বৃষ্টিটা হওয়ায় গরমটা একটু কমেছে। ফ্যানের রেগুলেটারটা কমিয়ে রূপালী ওর ঘরের পুব দিকের জানলায় এসে দাঁড়াল। আজ বুলুর লেখা শব্দগুলো রূপালীর লড়াই করে বেড়ে ওঠা ম্যাচিয়র মনটাকে চঞ্চল করে দিল। মনটা ছুটতে চাইছে। যেতে চাইছে পুরনো দিনগুলোতে। তখন কি রূপালী এত গম্ভীর থাকত! কলর কলর বকেই চলেছে। ক্লাসরুম বেঞ্চে বসে রূপালী, পাশে কাবেরী।
—‘গতকালের সাড়ে দশটার হিন্দি সিরিয়ালটার কি ভয়ের ছিল বল!’ কাবেরী বেশ এক্সাইটেড। —‘আর বলিস না। সব থেকে ভয়ানক মিউজিকটা!’
পিছন বেঞ্চের কৌশিক গলা ঝাঁকাল—’তোরা ভূত প্রেত নিয়ে গবেষণা না করে থার্মো ডায়নামিক্সের নোটটা দেখ তো বুঝিস কি না’! ঠোঁটটা ভিতরে ঢুকিয়ে বিশ্রীভাবে দাঁত বের করে সুর করে রূপালী বললো- ‘পারব না রে!’ কৌশিকের পাশে বসে রূপঙ্কর মিটিমিটি হাসছিল।
ক্রমশ….
