গার্গী সিনহা
অষ্টম পর্বের পর……
ডুয়ার্সের দেশজ বাসগৃহগুলি সাধারণভাবে একতলাই হয়। ঘরের মূল কাঠামো তৈরি হয় বাঁশ বা শালকাঠের খুঁটি দিয়ে। এই একই উপকরণ দিয়ে অরণ্যের ভেতরের জনপদগুলিতে বাসগৃহের মূল মাচাও তৈরি হয়। মাচাওয়ালা ঘরের ক্ষেত্রে মেঝে হিসাবে টোটো, রাভা, গারোরা সহজলভ্যতা অনুসারে বাঁশ বা কাঠের পাটাতন তৈরি করে। কিন্তু অরণ্যবাসী মেচ বা বোডোরা খুব সম্ভবত তাদের প্লাবনভূমি অঞ্চলে বসবাসের চিরন্তন রীতি তথা স্মৃতি অনুসারে মাচার ওপর তৈরি বাঁশ বা কাঠের পাটাতনে নিয়মিতভাবে গোবর মেশানো কাদামাটির পুরু প্রলেপ দেয়। এর ফলে মেঝের ফাঁকফোকর যেমন বুজে যায় তেমনই মেঝে তেমনি মেঝে তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হয়। মাটির ভিতের অন্যান্য দেশজ বাসগৃহগুলির ক্ষেত্রেরও মেঝেতে গোবর মেশানো কাদামাটির প্রলেপ দেওয়ার রীতি প্রচলিত। ডুয়ার্সের দেশজ গৃহনির্মাণে ঘাস ও ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ব্যাপক ও নানাবিধ ব্যবহারের জনপ্রিয়তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এইসব উদ্ভিদ যেমন – হোগলা, নলখাগড়া, কাশ ইত্যাদি সহজলভ্য ও সস্তাই শুধু নয় (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলি বিনামূল্যে সংগৃহীত হয়), এগুলি স্থানীয় আর্দ্র-স্যাঁতস্যাঁতে জলবায়ুতে সহজে পচে যায় না, এমনকি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে একটানা ৬-৭ বছর বা তার বেশি টেকসই হয়। সাধারণভাবে এইসব উদ্ভিদ ও অরণ্যের তলদেশে জন্মানো ঝোপঝাড় আর্দ্র ঋতুর শেষে সংগ্রহ করে বাসগৃহ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় ফেলে শুকানো হয় কখনও অবশ্য এগুলির উৎস অঞ্চলেই কেটে কয়েকদিনের জন্য ফেলে রাখা হয় এবং শুকিয়ে গেলে ই বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ক্রমশ…….
