রিমা বিশ্বাস

তৃতীয় পর্বের পর….

রূপালী তো খেয়ালই করেনি কৌশিকের পাশে রূপঙ্কর বসে আছে। লজ্জা পেয়ে গিয়েছিল ও। কলেজে ওই রূপঙ্করকে দেখলেই রূপালীর বুকটা ঢিবঢিব করত। ছেলেটা লম্বা ছিল প্রায় পাঁচ এগারো। পেটানো চেহারা ছিল। একই ডিপার্টমেন্টে ছিল ওরা। ফার্স্ট ইয়ারে শুধুই রূপালী ওকে লুকিয়ে চুরিয়ে দেখে গেছে। সেকেন্ড ইয়ারে একদিন কাবেরী বললো— ‘যা একবার কথা বল!’ রূপালী সবই বলত কাবেরীকে। কিন্তু নিজে থেকে কি বা বলে!

রূপঙ্কর সারাক্ষণ পড়া আর ক্যারিয়ার নিয়ে পড়ে থাকত। জেএনইউ থেকে এমএসসি করবে তারপর পিএইচডি। বিদেশে যাওয়ার জন্যও বিভিন্ন পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রিপারেশনও নিচ্ছিল।

যেদিন মহুয়াদের বাড়ির পিকনিকে এসেছিল সেদিন কাবেরী প্রায় ঠেলেই পাঠাল — যা কথা বল!’ কী আড়ষ্ট লাগছিল রূপালীর। কী বলবে! তাও এক পা দুপা করে এগিয়েছে। মহুয়াদের বাগানের দোলনায় বসে দুলছিল সে। হাতে সায়েন্স ম্যাগাজিন। লজ্জার মাথা খেয়েই সেদিন রূপালী কথা শুরু করে। এদিকে বুকের ভিতর যেন কেউ হাতুড়ি পিটছে—‘সারাক্ষণ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাব?’

—‘স্টুডেন্ট লাইফে আর কি ভাববো! একবার সেটল হলে, ব্যাস!

ক্রমশ…..