গার্গী সিনহা
নবম পর্বের পর…..
সমান্তরালভাবে সাজানো দুটি বা প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাঁশের (গোটা বা আড়াআড়িভাবে দ্বিখণ্ডিত) অথবা সহজলভ্য কোন গাছের সরু ডালের তৈরি ফ্রেমে ঝোপজাতীয় গাছের শুকনো ডালপালা ও কাণ্ডগুলি গোছা করে বা বাঁশের সরু কঞ্চি পরপর সাজিয়ে লম্বালম্বিভাবে বেঁধে বাড়ির সীমানা নির্দেশক বেড়া বানানো হয় (যদিও অনেক বাড়িতেই বেড়া থাকে না)। একই পদ্ধতিতে ঘরের দেওয়ালও বানানো হয়। তবে এক্ষেত্রে নলখাগড়া বা বাঁশের পাতার ফ্রেমে ঝোপের কাণ্ড ও ডালের বদলে চেরাবাঁশ বা বেত কিংবা গোটা মূলিবাঁশ অথবা বাঁশের সরু কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। আবার টোটোদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এবং মেচ প্রভৃতিদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বাঁশের বাতা সাজিয়ে রকমারি নকশার অনেকটা চাটাই-এর মত বুনে দেওয়াল তৈরি হয়। টোটো বাদে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজ নিজ সামর্থ্য প্রয়োজন ও উপকরণের প্রাপ্যতা অনুযায়ী একজাতীয় দেওয়ালের ওপর (বাড়ির এক বা একাধিক দেওয়ালের) ঘরের ভেতরে বা বাইরে বা উভয়দিকে-গোবরমেশানো কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে থাকে। এই ধরনের দেওয়ালকে ইংরেজরা বলত ‘ডাবওয়াল’ (Dubwall)। ডাবওয়ালের সুবিধা হল মাটির প্রলেপ একদিকে দেওয়ালের ফাঁকফোকর বুজিয়ে দেয় অন্যদিকে এগুলি স্বাভাবিক Insulator হিসাবে ঘরের আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে— অর্থাৎ কোনরকম কৃত্রিম যন্ত্র (বৈদ্যুতিক পাখা, বাতানুকূল যন্ত্র ইত্যাদি) ছাড়াই ঘরের ভেতরটা গরমে শীতল আর শীতে গরম থাকে। দোচালাঘরের ভেতর বায়ুচলাচলও পর্যাপ্তমাত্রায় হয়।
ক্রমশ…….
