ইমদাদুল হক

প্রথম পর্বের পর…..

তাই হাওয়ার কথা। রোদে বৃষ্টিতে এই গ্রাম ওই গ্রাম ঘুরে গরিব মানুষের বাচ্চাকাচ্চা পড়ায়। সারাদিনই ওই কাজ। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়া মানুষ। বাচ্চাকাচ্চাদের

অ আ পড়ায়। পয়সা পায় সামান্যই। কোথাও কোথাও পায়ও না। দুপুরবেলা হয়তো ভাতটা খাওয়ালো কেউ। বিকেলবেলা চা নাশতাটা। কোনও কোনওদিন বাড়িও ফেরে না। সন্ধ্যাবেলা বাচ্চা পড়িয়ে ওই গৃহস্থের বাড়িতেই থেকে গেল। তারা হয়তো রাতের খাবারটা দিল। পুরো নাম জরিনা। পরিচিত ছেলেমেয়েরা ডাকে জরিবু।

মৌও তাই ডাকে।

জরি কথা বলে খুব মিষ্টি করে। মুখে হাসিটা লেগেই আছে। গরিব গৃহস্থবাড়ির মেয়ে। বিয়েও হয়েছিল। কিন্তু…

মা বাবা গত হয়েছে বহুদিন। ভাই বোন যে যার সংসারে। বাপের ভিটের একখানা কুঁড়েঘরও জরির আছে। জ্বরজ্বারি হলে, বাড়ি থেকে বেরোতে না পারলে ঘরটায় থাকে। নিজে রান্না করে খায়। দুই ভাই ভাবিরা, তাদের বাচ্চাকাচ্চারা ফিরেও তাকায় না জরির দিকে।

মৌ বলল, তুমি এসে খুব ভালো করেছো জরিবু। আমিও বাড়ি এলাম, বাবা ঢাকায় গেলেন কলেজের কাজে। প্রিন্সিপাল সাহেবদের দৌড়াদৌড়ির অন্ত নেই। কলেজের চে’ শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষামন্ত্রণালয় ওসব জায়গায়ই থাকতে হয় বেশি। তুমি আজ আমাদের বাড়িতে থাকো। রাতভর গল্প করবো দুজনে।

জরি হাসলো। আচ্ছা বুবু, থাকবো।

ক্রমশ……