গার্গী সিনহা

১১ তম পর্বের পর….

পরবর্তীকালে দেওয়াল ও মেঝেতে কাঠের তক্তা লাগানো হলেও এটি সহজলভ্য উপাদান না হওয়ায় এর ব্যবহার করে আর জনপ্রিয় হয়নি। তবে ভিত থেকে দেওয়ালের নীচের অর্ধেক টিন বা কংক্রীটের ও বাকিটা বেড়ার বা সিমেন্টের ডাবওয়ালের তৈরি একতলা, এমনকি দোতলা বাড়িও কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ফলে সুদীর্ঘকাল ডুয়ার্সের আর্দ্র জলবায়ুতে টিকে থাকতে দেখা যায়। এধরণের মিশ্রশৈলীর গৃহনির্মাণের সুবিধাই হল এতে দেশজ গৃহনির্মাণশৈলীর পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট এবং তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাটি অনেকাংশেই সুরক্ষিত থাকে, আবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপকরণের সীমিত ব্যবহার একইসঙ্গে অরণ্যের ওপর গৃহনির্মাণের এইসব মিশ্রশৈলীর দেশজ বাসগৃহে ধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ার বাস্তুতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ধারাটিও কিন্তু সংরক্ষিত হয়।

ডুয়ার্সের আরণ্যক বাস্তুতান্ত্রিক ভূদৃশ্য অনেকদিন আগেই মানুষের হস্তক্ষেপে বদলে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। অথচ বিগত শতকের শেষভাগ থেকে আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার অবদান কংক্রিটায়নের হাত ধরে দেশজ বাসগৃহ দ্রুত এগিয়ে চলেছে অবলুপ্তির পথে। এর অন্যতম প্রধান কারণ অরণ্য সংকোচন বা অরণ্যনিধন। দেশজ বাসগৃহ মূলত অরণ্য থেকে সংগৃহীত উপাদানে তৈরি। অরণ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাভূমি, ঘাসজমি নানাভাবে (বহুক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সরকারী মদত) ধ্বংস হয়ে যাওয়ার টান পড়ছে গৃহনির্মাণের একদা সহজলভ্য (বর্তমানে দুর্লভ প্রাকৃতিক উপাদানের।

ক্রমশ…..