মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়

বরানগরের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে একশ পা হাঁটলেই ভীষণ ব্যস্ত বড় রাস্তা। দুর্গাপুজো কালীপুজো সব শেষে জীবন আবার রোজের রুটিন লাইফে ফিরেছে। সকালের রাস্তা আবার প্রাত ভ্রমণকারীদের ভিড়ে মুখরিত। বাজার, চায়ের দোকান আর বড় রাস্তার মোড়ে প্রচুর বিজ্ঞাপনের ভিড়। বিশাল বিশাল হর্ডিং। জামা জুতো লিপস্টিক থেকে শুরু করে মিষ্টি কোল্ড ড্রিঙ্কস সব। সেই ভিড়ে একটা বিজ্ঞাপন বেশ একটু অন্যরকমের। মিসেস দত্তরায়ের চোখ হঠাৎ আটকে গেল সেই দলছুট বিজ্ঞাপনে।

ট্যাটু! ষাটোর্ধ মিসেস দত্তরায় মানে পলা দত্তরায় মর্নিং ওয়াকে বেড়িয়ে থমকে থামলেন সেই বিজ্ঞাপনের হর্ডিং এর সামনে। ট্যাটু এই শব্দটা বেশ লাগে তার। শুধু শব্দটা কেন, ট্যাটু ব্যাপারটাতেই তার একটা আলাদা কৌতূহল আছে।

পাশের বাড়ির রুদ্রর নতুন বউ টিয়া বেশ আধুনিক। প্রায়ই ছোট ছোট জামা কাপড় পরে কখনও ছাদে কখনও বাগানে ঘোরাফেরা করে। ফর্সা ছিপছিপে বেশ মিষ্টি লাগে টিয়াকে। পলা সেদিন হঠাৎ আবিস্কার করলো টিয়ার পিঠে খুব সুন্দর তিনটে প্রজাপতি। ছোট নাতনি তানিকে জিজ্ঞেস করতেই সেদিনই এই ট্যাটু শব্দটার সাথে তার প্রথম পরিচয় হল। পলা তারপর থেকেই টিয়ার লো কাট ব্লাউজের খোলা পিঠে প্রজাপতিগুলোকে উড়ে বেড়াতে দ্যাখে খুব মন দিয়ে। মন চায় তার হাতেও যদি উড়ে এসে বসতো এইরকম একটা রঙিন প্রজাপতি!

ক্রমশ ……