মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়

প্রথম পর্বের পর….

তীব্র ইচ্ছে শরীরের ভেতরে জন্মায়। ছোট্ট কিন্তু গভীর, গোপন তবু ব্যাপ্তি চায় এই ইচ্ছেটা। কিন্তু আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত বাঙালি মেয়েদের জীবনের সমান্তরাল গল্প পলার জীবনেও ভীষণ ভাবে সত্যি। তবু হর্ডিং-এ দেওয়া কনট্যাক্ট নাম্বারটা লিখে রাখল নিজের সেলফোনে।

মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরে বাড়ির কাজ করতে করতে বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। বিজ্ঞাপনের হর্ডিংটা। পলার অনেক ছোট বড় ইচ্ছে, আজও ইচ্ছে হয়েই থেকে গেছে, তবে তার জন্য কখনও কোন অভিযোগ করেনি সে। কিন্তু এই নতুন ইচ্ছেটা বড্ড ঘ্যানঘ্যান

করছে মনের ভেতর।

স্বামী অরূপ দত্তরায় বড্ড একরোখা আর বদমেজাজি। প্লাকে চিরদিনই রান্নাঘরে দেখতেই সে বেশি পছন্দ করে। নিজে যথেষ্ট আধুনিক। পোশাক-আশাকেও। বয়েসের তুলনায় একটু বেশিই আধুনিক। তবু পলাকে মর্নিং ওয়াকে শাড়ি পরে যাওয়ার জন্য জোর করতো। তবে নাতনি তানির অকাট্য যুক্তির কাছে হেরে গিয়ে এখন আর সে রকম কিছু বলে না। পলা কোনদিনই অরূপের ইচ্ছের বাইরে যাওয়ার সাহস দেখায়নি আর অরূপেরও কখনও মনে হয়নি যে পালার নিজস্ব কোনো ইচ্ছে থাকতে পারে অথবা থাকা উচিত।

ক্রমশ…..