শমিত মন্ডল
অষ্টম পর্বের পর…..
চাঁদ সদাগরের কাহিনি জানে সারাদেশ। তাঁর বাণিজ্য- যাত্রা, নৌকাডুবি, অন্তর্ধান ; কে এক কবি তাঁকে নিয়ে রচনা করেছে একটি সুন্দর কাব্য। সেই কাব্যকে কথক ঠাকুরেরা গানে কথায় হাটে-মাঠে-বাটে পরিবেশন করেন। ফলে, যখন জানা গেল জীয়ন্ত চাঁদ সদাগর আবির্ভূত হয়েছেন তখন মানুষের ঢল নামল শোভাযাত্রা ঘিরে। মাঝে মাঝেই অবরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। এয়োতিরা শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি করছে। অনেকেই তাঁকে প্রণাম করতে চাইছে। রক্ষীদের ধমকচমকেও তারা নিবৃত্ত হতে চাইছে না।
এমন সময় দেখা গেল এক যুবতী আলুথালু হয়ে ছুটে আসছে শোভাযাত্রা লক্ষ করে। মুখে তার একটিই কথা— কেমন মানুষ তোমরা! আমার মানুষটারে নিয়ে কোথায় চললে ? রক্ষীরা বাধা দিল। কিন্তু সে তাদের ঠেলেঠুলে একেবারে গো-শকটের কাছে চলে এল। সে চন্দ্রধরকে ব্যাকুল কণ্ঠে বলল- ও পাগল, তুমি একবার আমারে দেখো। আমি যে তোমার সোনা বউ। এই অঘ্যান মাসেই যে আমাদের বিয়া হবে গো।
অনেকেই হেসে উঠল। চন্দ্রধর এতক্ষণ অর্ধশায়িত হয়ে যুবতীর কথা শুনছিলেন। ভাবলেন— মেয়েছেলেটা তো কম জাঁহাবাজ না! এই মওকায় আমাকে পতিত্বে বরণ করতে চায়। তিনি আর একবার ভাল করে তাকিয়ে দেখলেন নারীটির দিকে। এর শরীর স্বাস্য ভাল হলেও মুখশ্রী ভাল না। বিশেষত, সনকার চাঁদপানা মুখটির কাছে এ একেবারে নিভস্ত! এর আধ-নোংরা পোশাকের দিকে একবার তাকিয়ে তিনি ঘৃণায় নাসিকা কুঞ্চিত করে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। তাকালেন বিস্তৃত রাজপথের দিকে।
কবিরাজকে জিজ্ঞাসা করলেন— রাজবাড়ি আর কতদূর? তিনি নগর-কোটালের মুখে শুনেছেন সেখানে তার জন্য রাজকীয় আপ্যায়নের ব্যবসা হয়েছে। একটা বাঁক ঘুরে শোভাযাত্রা এগিয়ে চলল রাজবাড়ির দিকে।
সমাপ্ত
