মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়
দ্বিতীয় পর্বের পর…..
ছেলে কৃষ্ণেন্দু ও মেয়ে নন্দিনী ওয়েল সেটেল্ড। নিজেদের আধুনিক জীবনে বেশ জমিয়ে সংসার করছে দুজনেই। ওদের একটি করে কন্যাসন্তান। দুজনেই কলেজে পড়ে, তিতির আর তানি। ছেলেমেয়েরা সপরিবারে এসে মাঝে মাঝে মা বাবাকে দেখে যায়। অরূপ দত্তরায় ডি ভিসির ভালো পোস্টে ছিলেন। তাই ইকনমিকেলি তারা ছেলে মেয়ের ওপর নির্ভরশীল তো নয়ই বরং বেশ স্বাচ্ছন্দ্য উকি দেয় ঘরের কোনায় কোনায়। দুই নাতনি ঠাম্মার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওরা এলে পলাও ফিরে পায় তার কলেজবেলা। তিতির আর তানি খুব ভালো করেই বোঝে যে ঠাম্মি বয়েসে বড় হলে কি হয়, মনের দিক থেকে ওদের মতোই টিন এজার। পোশাকে-আসাকে দাদাই এর মতো আধুনিক না হলেও ঠাম্মি মনের দিক দিয়ে ভীষণ আধুনিক চিন্তা ধারার মানুষ।
ছেলে মেয়েরা তাদের বহু চর্চিত আধুনিক জীবনে মা বাবাকেও আলাদা প্রিভেসি দেওয়ার অজুহাতে ওদের সৌ-কল আধুনিক জীবন থেকে বেশ কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখেছে। তাই অরূপবাবু ও পলার একমাত্র সাথী তাদের একাকীত্ব।
পলা বিকেলের চা নিয়ে এসে বসলো বারান্দায়। দুজনে এই সময়টা একসাথে চা খায় আর
সাংসারিক দু একটা কাজ অকাজের কথা সেরে নেয়। আবার কখনও ছেলে মেয়ের জন্য মনখারাপ ভাগ করে নেয় পরস্পরের কাছে। কিন্তু পলা আজ সে সব কিছু না বলে তার ইচ্ছেটা অকপটে জানালো অরূপকে।
“কি বললে ট্যাটু? সেটা আবার কি জিনিস?”
“এটা এখন নতুন ট্রেন্ড”
“মানে? একটু খোলসা করে বল দেখি কি আবার নতুন শখ হল!”
“ওই যে গো আজকাল ছেলেমেয়েরা হাতে পিঠে কি সুন্দর রং দিয়ে ফুল, প্রজাপতি,
প্রিয়জনের নাম লেখে না?”
“ও তাই বল, ওই পাশের বাড়ির টিয়ার পিঠের প্রজাপতির মতো?”
ক্রমশ……
