মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়
চতুর্থ পর্বের পর…..
“কী হল, ছেলের সাথে কথা বলে মাথা থেকে ট্যাটুর ভুতটা কি নামলো? আর এককাপ চা খাওয়াও দেখি, বাজার যাই, তানিটা রসমালাই খেতে বড্ড ভালোবাসে!” দাবা খেলায় মোক্ষমো চালটা দিয়ে বিরোধীপক্ষকে বিপাকে ফেলার মতো একটা হাসি অরূপের চোখে মুখে।
পলার বুঝতে অসুবিধে হল না যে ছেলেমেয়ের সাথে অরূপের আগেই কথা হয়ে গেছে। গ্যাসের ওভেনে চায়ের সসপ্যান, কিন্তু পলার চোেখ জানলার বাইরে। শহরে শীত পড়তে শুরু করেছে সবে, কিচেনের জানলাটা উত্তর দিকে, তাই এখনি বেশ একটা শিরশিরে হাওয়া পলার গায়ে শীতকাটা দিয়ে গেল। হেমন্তের হাওয়ায় কেমন যেন একটা মনখারাপ থাকে, একটা নস্ট্যালজিয়া। আচমকা সেলফোনটা বেজে উঠতেই ঘোর কাটল পলার। চা ফুটে অলরেডি বাদামী থেকে গাঢ় বাদামীর দিকে।
“হ্যালো ঠাম্মি, আমি ঠিক তিনটেয় চলে আসবো, তুমি রেডি থেকো, বেলুড় যাবো কেমন! শুধু তুমি আর আমি বুঝেছ? আর হ্যাঁ, দাদাইকে বোলো আমার কিন্তু রসমালাই চাই ই চাই।”
“আজ আমি তোকে রসমালাই খাওয়াব একেবারে হোমমেড। ইউ টিউবে বাংলার রান্নাঘর
থেকে।”
“ইয়াম্মি, আই অ্যাম ওইয়েটিং ফর দ্যাট ঠাম্মি” “আই অলসো ডিয়ার”
পলা ফোনটা রেখে চায়ের কাপ নিয়ে বসার ঘরে গিয়ে দ্যাখে অরূপ বিভোর হয়ে জানলার বাইরে কী যেন দেখছে। এই সময়টা বাগানে অনেক রঙ বেরঙের প্রজাপতি আসে, তাই হয়তো..! পলা চায়ের কাপটা বেশ শব্দ করে টেবিলের ওপর রাখল, সম্বিৎ ফিরে পেলো অরূপ। পলা সেলফোন থেকে সেদিনের বিজ্ঞাপনের হর্ডিং থেকে লিখে রাখা নাম্বারটা ডায়াল করলো অকম্পিত হাতে “হ্যালো, আমি পলা দত্তরায়, আই নিড অ্যান
অ্যাপয়েন্টমেন্ট।”
ক্রমশ……
