প্রিয়ম্বদা প্রিয়া

তৃতীয় পর্বের পর…….

অরিন্দমের

তখন নিজেকে কত শ্রেষ্ঠ মনে হচ্ছিল। ওর মধ্যে কত গুণ থাকলে এত বড় কোম্পানির মালিক ওকে জামাই করতে চায়। তারপর বিদেশে পড়ার সুযোগ।

তখন মৈত্রীকে একটা ছাড়া কাপড়ের মতন মনে হচ্ছিল। মলিন পুরনো অথচ ঐ পুরনো কাপড়েই লেগে থাকে নিজের অস্তিত্ব। তখন ওসব ভাবতে ইচ্ছে করেনি। অনেকেই কলেজ লাইফে প্রেম করে ক’জন সিরিয়াসলি নেয়। মানুষ জীবনে যাতে সাফল্য পাবে সে পথে যাওয়া উচিত। গাড়ির ব্রেক কষল। সামনে দিয়ে দুটো অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে ছুটে গেল। এক সময় মৈত্রীর হাত ধরে এভাবেই রাস্তা পার হত অরিন্দম।

বাড়িতে ঢুকে খাটের উপর শরীরটাকে ছেড়ে দিল শুয়ে রইল বালিশে মুখ গুঁজে, আজ আর বারে যায়নি। এ বাড়িটা ওর, তবে স্ত্রী অঞ্জনার নামে। অরিন্দমের বিয়ের আগে এই গুলোই শর্ত ছিল। অরিন্দমের বাড়ির লোকের সঙ্গে যখন ইচ্ছে দেখা করতে পারবে কিন্তু তারা মরজি মত আসতে পারবে না। অরিন্দম সেই সময় সব মেনে নিয়েছিল। অঞ্জনা দেখতেও তো ছিল মোমের পুতুলের মতন। তখন কি দেখে বুঝেছিল ও এত ছোট খাটো ব্যাপারে হাইপার হয়ে যায় মেজাজ ধরে রাখতে পারে না। বিয়ের কিছুদিনের মাথায় তা টের পেরেছিল। অরিন্দমের বাড়িতে পুজো, মা বললেন নতুন বউকে নিয়ে আসবি। সকাল থেকে অঞ্জনার মাথা

ব্যথা সে যেতে পারবে না। ‘ঐ সব মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির পুজো ব্রত আমার মাথায় ঢুকিও না!’ আমায় একা থাকতে দাও আমার মাথা ধরেছে।’