ইমদাদুল হক

তৃতীয় পর্বের পর…..

ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ৩

ফাল্গুন মাসের সন্ধ্যা হয় হয় সময়ের আলোটা অপূর্ব। সেই আলোয় মৌ যখন দেখছিল জরিকে, জরিও দেখছিল মৌকে। কী সুন্দর মেয়েটি! পাঁচ ফিট সাত আট ইঞ্চি লম্বা, উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং, টানা সুন্দর চোখ, মুখটা এমন, তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। হাসলে মনে হয় শিউলি ফুটেছে থরে বিথরে। ফিগার ইন্ডিয়ান নায়িকাদের মতো। বেগুনি রংয়ের সালোয়ার কামিজে দারুণ মানিয়েছে। একদম রাজবাড়ির মেয়েদের মতো।

সেই বাড়ির কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস পড়ল জরির। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে কাপ হাতে উঠল।

মৌ বলল, কোথায় যাচ্ছো? কাপটা ধুয়ে রাখি। তোমার ধুতে হবে কেন? বুয়া ধোবে। রেখে দাও। বুয়া রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত। আমিই ধুয়ে রাখি।

কলতলায় গিয়ে কাপটা ধুয়ে রান্নাঘরে রেখে এলো জরি। তারপর ব্যাগ থেকে স্পঞ্জের একজোড়া স্যান্ডেল আর গামছা বের করে আবার গেল কলতলায়। হাত মুখ ধুয়ে মুছে, স্যান্ডেল পায়ে ফিরে এলো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এখন চলো তোমার ঘরে গিয়ে বসি।

মৌ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ওই দেখো কী সুন্দর চাঁদ উঠেছে! ঢাকায় এতো সুন্দর চাঁদ দেখতেই পাই না। এসময় ঘরে বসে থাকবো? তাহলে কী করবে?

চলো বাগানের দিকে যাই, ঘুরে বেড়াই।

ক্রমশ…..