ইমদাদুল হক
ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ১০
১০ম পর্বের পর……
আমাদের পাড়ার ছেলেমেয়েরা । প্রায় সবাই যেতো। রাজা সাহেবের আদেশ। স্কুলে যেতেই হবে। তিনি স্কুল করে দিয়েছেন দেশ গ্রামের ছেলেমেয়েদের জন্য…
একটা কথা জরিবু, চৌধুরী বকে তোমরা রাজা সাহেব বলতে কেন?
এখানকার সবাই তাই বলতো। তিনি তো রাজাই ছিলেন। এলাকার জমিদার। বিল মাঠ গ্রামের পর গ্রাম সব চৌধুরীদের। পদ্মার চরের ওদিককার পুরোটাই তাঁদের। এই ধরনের মানুষদেরকেই তো রাজা বলে! আর চৌধুরী বাড়ি মানে রাজার বাড়ি, রাজবাড়ি। দোতলা বিশাল বিশাল বিল্ডিং, কাছারি ঘর, বাড়ির সামনে পাকা রাস্তা, বিশাল মাঠ, পেছনে গাছপালা ভর্তি বাগান, দিঘির মতো বিশাল বিশাল পুকুর, কবরখানা। চার পাঁচশো লাঠিয়াল, তাদের জন্য আলাদা গ্রাম। ভিতর বাড়িতে বিশ তিরিশজন কাজের লোক, সকাল থেকে রাত এক প্রহর অবধি রান্নাবান্না চলছে। এক দেড়শো লোক খাচ্ছে প্রতিদিন। কাছারি ঘরে কাজ করছে কুড়ি পঁচিশজন লোক। পাহারাদার, জমাদার, পাইক ভুঁইমালি, কত কত লোক। এসব তো রাজাদেরই থাকে। চৌধুরী সাহেবকে তাহলে রাজা বলবে না কেন? আঁর কী দরাজদিল মানুষ। তাঁর এলাকায় কেউ অনাহারে থাকে না।
ক্রমশ……
