ইমদাদুল হক
ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ৯
নবম পর্বের পর….
জরির পিঠে হাত বুলিয়ে মৌ বলল, না না ঠিক আছে। এমন তো হতেই পারে। এটাই তো সাহিত্যের কাজ। মানুষের মনের গোপনে লুকিয়ে থাকা বেদনাবোধ কিংবা আনন্দ জাগিয়ে দেওয়া। রবীন্দ্রনাথের এই
কবিতার সঙ্গে তোমার জীবনের ঘটনা মিলে গেছে। এজন্যই তুমি কাঁদলে।
জরি কথা বলল না।
মৌ বলল, তুমি কি আমাকে ঘটনাটা বলবে? বলবো। না বলে আমার আর উপায় নেই। জীবন শেষ হয়ে এলো। একজন কাউকে অন্তত বলে যাই, আমার আজকের এই জীবন কেন! কোন বেদনায়!
চাঁদ উঠে এসেছে বাঁশবনের মাথার ওপর। হা হা করা হাওয়াটা বইছেই। ঝিঁঝি ডাকছে, থোকায় থোকায় উড়ছে জোনাক পোকা, একটানা ডেকে যাচ্ছে দুরন্ত কোকিল পাখিটা। পুকুরের স্বচ্ছজলে চাঁদের আলো আর হাওয়ার খেলা।
অনেকক্ষণ কাঁদলে মানুষের গলা ভারি হয়। সে রকম গলায় জরি বলল, সেও এক ফাল্গুন মাসের কথা। শেষ বিকেল। কত বয়স আমার তখন! তেরো চৌদ্দ বছর হবে। স্কুলে পড়ি। আমাদের মতো গরিব গৃহস্থবাড়ির মেয়েরা তখনকার দিকে স্কুলে বলতে গেলে যায়ই না। আমি যেতাম।
ক্রমশ ……
