ডা চন্দ্রগুপ্ত
সূর্যোদয়ের পথে পর্ব ৬
ষষ্ট পর্বের পর…….
ভৈরো, সিঁধু এদের সাথে বিনোদ ছোটবেলায় খেলাধুলো করত, সেই কারণেই হয়তো পুলিশ সাহেবের এত কৌতুহল।
বেশ কয়েক বছর ধরেই গ্রাম থেকে জোর করে খাবার নিয়ে যাওয়া, ওদের কাজের প্রতিবাদ করলে ‘মুক্ত আদালতে’ গিয়ে যাবার জন্যে জবরদস্তি করা, এগুলো সিঁধু, ভৈরোরা করে আসছিল। বিনোদ জানে, জঙ্গল ভাইদের সাথে গেলে পুলিশ পেঁদাবে। আবার না গেলে ভাইরা মুক্ত আদালতে নিয়ে লাঠির ঘা দেবে। দুপক্ষই কেন যে গ্রামের লোকগুলোকে নিয়ে এমন টানা হেঁচড়া করে, মহুয়ার মদ পেটে পড়লেও বিনোদের মাথায় এর সমাধান বের হয় না।
রাতে খাওয়ার পরে হাঁটতে হাঁটতে খেতের ধারে গিয়েছিল বিনোদ। হাল্কা শীতের আবেশ, তাই কাথাও গায়ে জড়িয়ে নিয়েছিল। অনেকদিন পরে জহিরুলদের জমিটা নতুন করে ভালো লাগছে বিনোদের। লাল-সবুজ ডাঁটা শাক এ ভরে গিয়েছে। চাঁদের আলোতে ভালো লাগা যেন আরো বেশী হচ্ছে।
হাট থেকে সরু নাইলন তারের জাল এনে ঘিরে দিয়েছে জহিরুল। না হলে ছাগলের হাত থেকে নধর গাছগুলোকে বাঁচানো যাবে না। জহিরুল বলে, হারামিরা গরু-ছাগলের গলায় লাঠিও বেঁধে ছাড়বে না।— এসব গিয়ে ভাবতে ভাবতে খৈনি ডলছিল বিনোদ। আচমকা ঠান্ডা কিছু একটা ওর কানের পেছনে লাগল। হাত দিয়ে পেছন ফিরে দেখার আগে একটা ফ্যাসফ্যাস স্বর,
—কিরে, বাড়িতে খোঁচর লিয়ে মিটিং করছিস খুব।
ক্রমশ…..
