ইমদাদুল হক

ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ১১

১১ তম পর্বের পর….

কত ভূমিহীনকে জমি দিয়েছেন, যা চাষ করে খা গিয়ে। নিজ এলাকায় রেলস্টেশন করিয়েছেন, পোস্ট অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, স্কুল, কলেজ। তিনি তো রাজাই! রাজা যখন বাড়ি থেকে বেরোতেন, বিশ পঞ্চাশজল লোক সঙ্গে। আর কী সুন্দর, কী সুপুরুষ দেখতে। পোশাক আশাক রাজকীয়। আরবদেশ থেকে দামি আতর আনাতেন ব্যবহারের জন্য। বিলাত থেকে স্যুট টাই। তিনি বাড়ি থেকে বেরোলে এলাকায় সাড়া পড়ে যেত। সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে যেত চারদিক। তাঁর কাছে গিয়ে ন্যায় বিচার পায়নি এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। এই মানুষকে রাজা বলবে না তো কী বলবে!

মৌ মাথা নাড়লো। তা ঠিক।

জরি বলল, আর রাজবাড়ির ছেলেমেয়েরা, মাগো, কী সুন্দর একেকজন! তাকালে চোখ ফিরানো যায় না। মেয়েরা প্রত্যেকে তোমার মতো লম্বা, কাটা কাটা চেহারা, পটলচেরা চোখ। হাসিতে মুক্তো ঝরে একেকজনের। কী পোশাক আশাক, কী চালচলন তাঁদের! গান বাজনা আনন্দ উৎসব লেগেই আছে বাড়িতে। ছেলেমেয়েদের, মাকে সবাই বলতো মহারানী। রাজা সাহেবের সঙ্গে তিনিও দেশ বিদেশে ঘুরতেন। দুই রানীর ঘরে চৌদ্দ পনেরোজন ছেলেমেয়ে। রাজা সাহেব মহারানীকেই মর্যাদা দেন বেশি। ছেলেমেয়েরা, সবাই গান বাজনা করে। নাটক থিয়েটার করে। ভারি আমুদে পরিবেশ বাড়ির।

ক্রমশ…..