ডিজিটাল: নটরাজের নৃত্যের বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়। নটরাজ হলেন রাজা। দক্ষিণ ভারতের নটরাজ মুর্ত্তিটি ভারতীয় নৃত্যের দার্শনিক ব্যাখ্যার মূর্তি প্রতীক। নটরাজ ‘অপস্মর’ নামে একটি অসুরের উপর নৃত্য করেছিলেন। দৈত্য অপস্থর হলেন মায়া, শিব জীব কুলকে রক্ষা করেছিলেন। মায়াকে বিনষ্ট করে।মহাজাগতিক নৃত্যের স্রষ্টা নটরাজ সনাতন শক্তির উৎস পঞ্চ ক্রিয়ার দ্বারা নিজেকে প্রকাশ করছেন। এই পঞ্চক্রিয়া হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার, তিরোভাব ও অনুগ্রহ। তিনি দৈত্য অপস্মরকে পদতলে বিনষ্ট করে সৃষ্টিরক্ষা করছেন। অতএব তিনি পালক। দক্ষিণহস্তে অভয়দান করেছেন। বামহস্তে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ড ও মুক্ত জটাজাল ধ্বংসের প্রতীক বা পা উঁচুতে তোলা এবং আঙ্গুলের অগ্রভাগ নামানো। এর অর্থ হল অনুগ্রহ করছেন। ডানহাতে ডমরু বাজিয়ে তিনি অনাহত শব্দের সৃষ্টি করেন। কখনো তিনি তাণ্ডবরূপে কখনো সংহাররূপে, কখনো শান্তরূপে ধারনা করেছিলেন। তার এই রূপটি প্রকৃতির ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে। নারদের রচিত ‘সঙ্গীতম করন্দে’ শিবের সন্ধ্যানৃত্যের বর্ণনা আছে একদা প্রদোয়সময়ে হিমালয় পর্বতের উপর শিবনৃত্যে করেছিলেন।ব্রহ্মাতাল ধরেছিলেন, হরিমৃদঙ্গ বাজিয়েছিলেন। সিদ্ধ অপসরও কিন্নররা ছিলেন শ্রোতামগুগী। নন্দী ও ভৃঙ্গী মাদল বাজিয়েছিলেন এবং নারদ স্বয়ং সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। ভারতীয় নৃত্যের উদ্ভব ও বিকাশ আধ্যাত্মিকতা সঙ্গে জড়িত, এইজন্যই ভারতীয় নৃত্যের সঙ্গে অন্য কোন নৃত্যে চলে না।

তথ্য: চিত্র ভূষণ