ডিজিটাল:

গ্রীক শিল্পীরা দৈহিক সৌন্দর্য্যকে সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করাবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু ভারতীয় শিল্পীরা তাতে লাবণ্য ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে দিয়ে শিল্প চেতনাকে সৃষ্টি করতেন। ভারতীয় শিল্পীরা বুদ্ধদেবের ধ্যান মূর্ত্তিটি লাবণ্য ও ভাবে রূপে গাম্ভীর্যের ভেতর

দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই ভারতীয় ভাস্কর্যগুলি গ্রীক ভাবাপন্ন হয়ে ওঠে। বোধিসত্ত্বের

মস্তক, নাক, মুখ, চোখ প্রভৃতি গ্রীক প্রথার তৈরী হওয়ায়, মাথার মুকুটটি গ্রীক

হেলমেডের রূপে তৈরী করায় তাতে গ্রীক ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতীয় ভাস্কর্য্যের কাজগুলি গ্রীক প্রথায় তৈরী হওয়ায় সমস্ত মূর্ত্তির গায়ের চাঁদর, কাপড়ের ভাঁজ, দেহের গঠন ভারতীয় পদ্ধতিতেতৈরী হতো। গ্রীক শিল্পীদের সঙ্গে ভারতীয় শিল্পীদের মিলন হওয়ায় দুটি পৃথক ভাবধারায় মিশে

গিয়ে গ্রীক ভাস্কর্যগুলি ভাবের মধ্যে দিয়ে সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন। সেই অনুরূপ ভারতীয় শিল্পীরা নিজেদের ভাস্কর্যগুলির ভেতরের ভাবকে শিল্পের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। মথুরার ভাস্কর্যগুলি গ্রীক প্রভাব বেশী থাকায় সিংহের সহিত “বীরপুরুষের” মুখের ভাবটি সুন্দর রূপে প্রকাশ পেয়েছে। এই ভাস্কর্যটি গ্রীক পুরানের “হারকিউলিসের” সিংহ বধের মূর্ত্তিরূপে সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমস্ত কাজগুলোতে গ্রীক প্রভাব বেশী থাকায় ভারতীয় শিল্পের লাভ ছাড়া ক্ষতি হয়নি।

চিত্র ভূষণ