ওয়েব ডেস্ক ; ২৯ জুন : কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও অর্জুন রাম মেঘাওয়াল কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে উদ্যমী সম্মেলন মেলা ২০২৫ এর উদবোধন করেছেন। ভারত সরকারের আরো বেশি সংখ্যক উদ্যোগী তৈরি করা, ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ সহজতর করা, এবং অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাস্তুতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। লঘু উদ্যোগ ভারতী আয়োজিত এই সম্মেলনে পূর্বাঞ্চলের নীতি প্রণয়নকারী, আইন বিশেষজ্ঞ, শিল্পের শরিক এবং উদ্যোগীরা শিল্পক্ষেত্র পুনরুজ্জীবনের জন্যে প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকাঠামোর প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনার জন্যে এখানে একত্রিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ভাষণে, বৈষ্ণব বলেন, রেল ব্যবস্থার উন্নতি যে কোন অর্থনীতির উন্নয়নের প্রাথমিক চাহিদা। বর্তমান সরকার সর্বাধিক বাজেট বরাদ্দের লক্ষ্যে রেল বাজেটকে সাধারণ বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে রেলের বাজেট বরাদ্দ ২.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পূর্বতন সরকারের আমলে রেলের বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকা। গত ১১ বছরে প্রায় ৩৫ হাজার কিমি রেল লাইন পাতা হয়েছে। এক ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেই পাতা হয়েছে ৫৩০০কিমি রেলওয়ে লাইন। ১৪০০ লোকোমোটিভ ও ৩৫০০০ ওয়াগন প্রতি বছর ভারতের রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে রেলের উন্নতি প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, নিউ জলপাইগুড়ি- কলকাতা রেল করিডরকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হবে। গতিশক্তি কার্গো টার্মিনাল, নতুন রেল লাইন প্রভৃতির মাষ্টার প্ল্যানও বানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ‘ চিকেন নেক’ অংশ,যেখানে এখন মাত্র দুটি লাইন আছে, খুব শীঘ্রই সেখানে চার লাইনের নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে।সেবক-শিলিগুড়ি-নিউ মাল জংশনও মূল করিডোরের সঙ্গে যুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্যে রেলের বাজেট থাকতো ৩০০০ কোটি টাকার, বর্তমান সরকারের আমলে তা বেড়ে হয়েছে ১৪০০০ কোটি টাকা। রেলে এই বিপুল বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গকে বৃদ্ধির সড়কে স্থাপন করবে।
বৈষ্ণব সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক ও প্রযুক্তিগত অবদানের মাধ্যমে শিল্প ও জ্ঞানের শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হবার ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপরেও জোর দেন। তিনি ভারতের প্রাচীন সংখ্যা পদ্ধতিকে ইউরোপীয় নবজাগরণের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। মন্ত্রী বলেন ঔপনিবেশিক লুঠ এবং স্বাধীনোত্তরকালের পারমিট রাজ দেশের শিল্পক্ষেত্রের বদ্ধ অবস্থার জন্যে দায়ী।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক মানসিকতা ত্যাগ করার ওপরে জোর দিয়ে তিনি জানান, সরকার ব্যবসার জন্যে সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে বিধিনিয়ম সরল করার ওপর জোর দিচ্ছেন। জাপানে রেলব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে রেলমন্ত্রী অর্থনীতির উন্নয়নে রেলের ভূমিকার কথা বলেন। তিনি গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের রেল পরিকাঠামো প্রসারণের কথা জানিয়ে বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের আগামী রেল প্রকল্পগুলি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এমএসএমই ক্ষেত্রটিকেও সহায়তা করবে।
আইন ও বিচার দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল তাঁর ভাষণে ইন্ডাষ্ট্রি ৪.০-এর কথা বলেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবিষ্কার স্টিম ইঞ্জিন বা বিদ্যুৎ আবিষ্কার এবং কম্পিউটার উদ্ভাবনের সঙ্গে তুলনীয়। এ আই কে চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ দুইই হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান দ্রুত প্রসরমান ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধার্থে সরকার ১৯৬১ র আই টি আইনকে সরলতর করার চেষ্টা করছেন। মেঘাওয়াল আরো জানান যে, শিলিগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল স্মল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনের শুভ্রাংশু শেখর আচার্য, পদ্মশ্রী সজ্জন ভজংকা এবং প্রকাশ চন্দ্র ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
