ওয়েব ডেস্ক; ২৬ নভেম্বর : দেশে তৈরি প্রথম অ্যান্টি সাবমেরিন স্যালো ওয়াটার ক্র্যাফট ‘মাহে’-র কমিশন হল । তা পশ্চিমাঞ্চল নৌ-বহরের সঙ্গে যুক্ত হল। মুম্বাইয়ের নৌ ডকইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জলে ভাসানো হয়।
পশ্চিমাঞ্চল নৌকম্যান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কম্যান্ডিং- ইন চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। নৌবাহিনীর পদস্থ আধিকারিকবৃন্দ, কোচির কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কর্মীবৃন্দ এবং অন্য বিশিষ্ট অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মালাবার উপকূলের ঐতিহাসিক শহর মাহের নামে জাহাজটির নামকরণ হয়েছে। এই জাহাজটি সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। সঙ্গে উপকূল টহল এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ রক্ষার কাজে তা অনন্য ভূমিকা পালন করবে। গতিবেগ, ক্ষিপ্রতা, স্টেলথ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘক্ষণ টহলদারীর ক্ষমতা এর কার্যকারিতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। এর ক্রেস্টে রয়েছে ‘উরুমি’ যা কালারিপায়ট্টুর বিখ্যাত নমনীয় তরবারি। এই প্রতীকটি ক্ষিপ্রতা, নিখুঁত আঘাত এবং যুদ্ধ ক্ষমতার ইঙ্গিত বহন করে। এর ম্যাসকট হল চিতা, যা তার ক্ষিপ্রতাকে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের নির্মিত এই শ্রেণির ৮টি যুদ্ধ জাহাজের মধ্যে আইএনএস মাহে প্রথম। আত্মনির্ভর ভারতের উজ্জ্বল নমুনা তা বহন করছে। এর ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ভারতীয় নৌবাহিনীকে আত্মনির্ভর করে তোলার পথে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক কৌশলের এক অনন্য নিদর্শন বহন করছে যুদ্ধজাহাজ।
এই জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনীর নজরদারি দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেল। উপকূল এবং অগভীর জলে সাবমেরিন বিধ্বংসী ক্ষমতা এর প্রশ্নাতীত। অত্যাধুনিক অস্ত্র সজ্জিত এই জাহাজের সেন্সর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতমানের। যে কোনো বিপদকে চিহ্নিত করতে এবং সাবমেরিন ধ্বংসের লক্ষ্যে তা বিশেষভাবে তৈরি। অগভীর জলে দীর্ঘক্ষণ ধরে তা নজরদারিতেও সক্ষম।
অনুষ্ঠানে চিফ অফ আর্মি স্টাফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিদেবী বলেন, ভারতীয় নৌ-জাহাজ ‘মাহে’ –র কমিশনিং সমুদ্র পথে ভারতের নৌ শক্তির কেবল নতুন সংযোজনই নয়, দেশজ প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক এই জাহাজ যুদ্ধ ক্ষেত্রে যে কোনো জটিল সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম। এতে উপকূল নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্র শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। অপারেশন সিঁদুরকে সেনা ও নৌ ক্ষেত্রে যৌথ সংকল্পের স্বরূপ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, স্থল ও জলপথে ভারতের শক্তি বিশ্ববিদিত।
উপকূল রক্ষার কাজে প্রথম সারির মাহে শ্রেণির এই যুদ্ধ জাহাজ বিকশিত সমৃদ্ধ ভারতের আত্মনির্ভরতা ও সমুদ্র সুরক্ষায় ভারতীয় নৌবাহিনীর সদা প্রস্তুতির সাক্ষ্য বহন করছে।
