ওয়েব ডেস্ক; ৫ মে : স্বাস্থ্য পরিসেবা পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার দায়বদ্ধতার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ৪-১০ মে, পর্যন্ত দেশজুড়ে অগ্নি সুরক্ষা সপ্তাহ চালু করেছে। “স্বাস্থ্য পরিসেবা ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা” এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পূণ্য সলিলা শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে দেশজুড়ে শপথগ্রহণের মধ্যে দিয়ে এর সূচনা করা হয়। অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি সুরক্ষার প্রস্তুতি এবং অগ্নি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতাকে সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই শপথ গ্রহণ।

এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব এ বছরের অগ্নি সুরক্ষা সপ্তাহ উদযাপনের বিষয় হিসেবে- “নিরাপদ বিদ্যালয়, নিরাপদ হাসপাতাল এবং অগ্নি সুরক্ষা গড়তে সচেতন সমাজ : অগ্নি প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রয়াস” এই বিষয়কে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অগ্নি সুরক্ষা সুনিশ্চিত সম্মিলিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অগ্নি সুরক্ষা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বর্তমান পরিকাঠামোর মূল্যায়ণ, সঠিকভাবে অডিট এবং কোথাও কোনওরকম ফাঁক রয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করা এবং অসাম্যের দিকগুলিকে পূরণ করা দরকার। দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পেশাদারদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। তিনি বলেন, আইএইচআইপি পোর্টালে সমস্ত রাজ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি অগ্নি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা নিয়মিত জানাবে।
৫০,০০০-এরও বেশি অংশগ্রহণকারী ইতিমধ্যেই iGOT অগ্নি সুরক্ষা কোর্স সম্পূর্ণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। দেশ জুড়ে অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মধ্যে দিয়ে জন ভাগীদারি অর্থাৎ জনসাধারণের অংশগ্রহণের একটা সদর্থক প্রভাব পড়বে বলে তিনি জানান।
জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)-র সদস্য এবং প্রধান কৃষ্ণ এস. বৎস স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে অগ্নি সুরক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। রাজ্য এবং জেলা স্তরেও এই জাতীয় গঠনমূলক প্রস্তুতি গড়ে তুলতে এনডিএমএ-র পাঁচটি আঞ্চলিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ।
অগ্নি পরিষেবা ক্ষেত্রের মহানির্দেশক সুনীল কুমার ঝা স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদানকারী ক্ষেত্রগুলিতে অগ্নি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সেইসঙ্গে হাসপাতালের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল বাতাবরণে এই ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনা করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী ক্ষেত্র অগ্নি প্রতিরোধ ও জীবনের নিরাপত্তা ২০২৬ নিয়ে একটি জাতীয় নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এই নির্দেশিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। অগ্নি সুরক্ষা এবং আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে নানান পরিকল্পনা সেইসঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা যেমন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ), পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) এবং অপারেশন থিয়েটারগুলিতে কঠোরভাবে অগ্নি সুরক্ষা বিধান কার্যকরী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর সচেতনতা গড়ে তুলতে পোস্টার তৈরি, ক্যুইজ প্রতিযোগিতার মতো নানা উদ্যোগের পাশাপাশি অগ্নি প্রতিরোধে নানান নকশা তুলে ধরা হবে। এতে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে পেশাদার সহ ছাত্র সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতার প্রসার ঘটবে।