ওয়েব ডেস্ক; ২০ মে: নতুন দিল্লিতে অ্যাসোচ্যাম ইন্ডিয়া বিজনেস রিফর্মস সামিটে ভাষণ দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। তিনি শিল্প মহল এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে বিশ্বের বাজারে ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ডাক দিয়েছেন। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে যাত্রা ত্বরাণ্বিত করার কথা বলেছেন তিনি।

বিশ্বজোড়া অনিশ্চয়তাকে সংস্কার ও ধারাবাহিক বিকাশের সুযোগে পরিণত করার ডাক দিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব যে কোনও সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করার ক্ষমতা ধরে বলে তাঁর মন্তব্য। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের প্রেক্ষিতে তিনি সতর্ক থাকার এবং আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অপচয় বন্ধ করে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর মতো এই সমস্যারও মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কোভিডকালে তার কার্যকারিতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করে এদেশে গ্লোবল কেপেবেলিটি সেন্টারের দ্রুত প্রসারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে এ ধরনের প্রায় ১,৮০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং তার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ২০ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রকৌশল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে তাঁর মন্তব্য। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন ভারত থেকে এবং ভারতীয় ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে ভিনদেশে ক্লাউড পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ২০৪৭ পর্যন্ত ১০০ শতাংশ কর ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শুল্ক যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘর্ষ এবং পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট সত্ত্বেও ভারতের রপ্তানি গত বছর ৮৬৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিল্প পার্ক সহ আরও নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ভারতকে বিশ্বের আঙিনায় অন্যতম শিল্প শক্তি করে তুলতে চায় বলে তিনি ফের উল্লেখ করেন। সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে পর্যটন এবং ভোগ ব্যায়ের চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এদিকে সরকার লক্ষ্য দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, রপ্তানির মোট মূল্যমান ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের এবং এক্ষেত্রে আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্পাদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতে সংস্কার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর মন্ত্রক। দেশে ২১৬টি শহরে ৪৬টি সংস্থার আওতায় তাঁর মন্ত্রকের ৪৮২টি দপ্তর রয়েছে বলে শিল্পমন্ত্রী জানান।

বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী।