কলকাতা ; ২৩ মে : কেন্দ্রীয় সরকারের দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের অংশ হিসাবে দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশন ২৩ মে ১৯-তম রোজগার মেলার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক সম্বোধিত জাতীয় রোজগার মেলা কর্মসূচির সাথে সংযুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৫১,০০০ নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।
খড়গপুরের এই অনুষ্ঠানে রেল, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র, ডাক বিভাগ (Postal Department), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) এবং ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)- সহ বিভিন্ন সংস্থায় নির্বাচিত ১৮২ জন সফল প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন, কৃষি বিপণন এবং প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই উপলক্ষে উপস্থিত দক্ষিণ পূর্ব রেলের পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন খড়গপুর ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) ললিত মোহন পাণ্ডে, অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ADRM) বাবুল বর্মন, সিএমএস (CMS), ডিপিও (DPO) এবং অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, ভারত ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসনের লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশের পরিবহন ও রেল পরিকাঠামো নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভারত মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence) এবং ড্রোন প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি, নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও প্রচার করছে। তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গৃহীত বেশ কয়েকটি প্রধান পরিকাঠামোগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালনা, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন প্রকল্পগুলি, যেগুলিকে তিনি একটি দ্রুত উন্নয়নশীল ভারতের প্রতীক হিসাবে বর্ণনা করেন।

ঘোষ আরও জানান, খড়গপুর বিমানবন্দরকে অসামরিক বা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্নত করার একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।

রোজগার মেলা উদ্যোগটি বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ, যুব ক্ষমতায়ন এবং জাতি গঠনের ওপর সরকারের ক্রমাগত অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।