ওয়েব ডেস্ক; ২৬ মে: কেন্দ্রের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী ড. বীরেন্দ্র কুমার শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর লোকোমোটর ডিজঅ্যাবিলিটিজ (দিব্যাঙ্গজন) বা এনআইএলডি (NILD) পরিদর্শন করেন এবং দিব্যাঙ্গজনদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সহায়তা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে স্বাগত জানান সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের ডিইপিডব্লিউডি–র যুগ্মসচিব রাজীব শর্মা এবং এনআইএলডি কলকাতার অধিকর্তা ড. ললিত নারায়ণ।

পরিদর্শনের সময় ড. বীরেন্দ্র কুমার প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন দিব্যাঙ্গজন রোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যাঁদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণরাও ছিলেন। তিনি অভিভাবক, চিকিৎসক এবং পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষত চক্ষুবিদ্যা ও লো ভিশন কেয়ার পরিষেবা পরিদর্শন করেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রীকে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটাতে ও খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়। কয়েকজন দিব্যাঙ্গ শিশু তাঁকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসাবে নিজেদের আঁকা ছবি ও হাতে তৈরি শিল্পকর্ম উপহার দেয়।

চক্ষু পরিচর্যা ইউনিট পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী চিকিৎসাধীন এক শিশুর অভিভাবকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানে উপলব্ধ চিকিৎসা পদ্ধতি ও সহায়ক ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

আলোচনার সময় মন্ত্রী দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব জনপরিষেবা চর্চার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দেশনা অনুসরণ করে ড. বীরেন্দ্র কুমার এই সফরে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তাঁর কনভয়ে মাত্র দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবহার কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব চর্চাকে উৎসাহিত করতে তিনি অনুষ্ঠানস্থলের অন্দরে ই-রিকশায় যাতায়াত করেছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশে ড. বীরেন্দ্র কুমার বলেন, “এখানকার কেন্দ্রটি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু, লো ভিশন শিশু এবং বিভিন্ন বয়সের অন্যান্য রোগীদের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনায় অঙ্গ হারানো রোগীদের জন্য ফিজিওথেরাপি–সহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাও এখানে দেওয়া হচ্ছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৃত্রিম অঙ্গ ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে আগে কয়েকদিন সময় লেগে যেত। এর ফলে, বিশেষভাবে সক্ষম রোগীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়ৃছে। অনেক রোগী চিকিৎসার পর আবার পড়াশোনাও শুরু করতে পেরেছেন।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “দিব্যাঙ্গজনদের সহায়তা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে আরও বহু আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। এগুলি তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে মানিয়ে নিতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাঁচতে সাহায্য করবে। আমি লো ভিশন ও দৃষ্টিহীন শিশুদের দেরাদুনে অবস্থিত আমাদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করতে বলেছি, যাতে তাদের চিকিৎসা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।”

এই সফরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একাধিক নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি ড্রাইভিং সিমুলেটর, দুটি অ্যাম্বুল্যান্স, একটি অফিস যানবাহন, একটি সৌরশক্তি প্যানেল ব্যবস্থা, একটি লো ভিশন অ্যাসেসমেন্ট ক্লিনিক, একটি কম্বিনেশন থেরাপি ইউনিট, NIEPID সেকেন্দ্রাবাদ–উদ্ভাবিত ‘i-amma’ অ্যাপ এবং AYJNISHD-RC কলকাতায় একটি স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি ইউনিট। তিনি ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে একটি চারাগাছও রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনআইএলডি কলকাতার ডিরেক্টর ড. ললিত নারায়ণ বলেন, “এই ধরনের কর্মসূচি দেশের প্রতিবন্ধীদের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আজ দিব্যাঙ্গজন মানুষের সেবায় নিয়োজিত আটটি নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। এখানে রোগীদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা, উভয়ই প্রদান করা হচ্ছে।”