ওয়েব ডেস্ক; ১ জুন : আবাসন এবং নগর বিষয়ক মন্ত্রকের ফ্ল্যাগশিপ অণুঋণ কর্মসূচি পিএম স্ট্রিট ভেন্ডরস আত্মনির্ভর নিধি (পিএমস্বনিধি) ৬ বছর পূর্ণ করল। সহজ বন্ধকহীন ঋণ ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে স্ট্রিট ভেন্ডরদের ক্ষমতায়ন করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
এই ঘটনার উদযাপন করতে কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল, ত্রিপুরার মাননীয় মু্খ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকে সঙ্গে নিয়ে অরুণাচলপ্রদেশ, অসম, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার পিএম স্বনিধি সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে কথা বললেন। অনুষ্ঠানে তাঁরা ত্রিপুরার স্ট্রিট ভেন্ডরদের ক্রেডিট কার্ড এবং ঋণ অনুমোদনের পত্র প্রদান করেন।
২০২০-র জুনে শুরু হওয়া থেকে পিএম স্বনিধি স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য এক রূপান্তরকারী উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সুবিধাপ্রাপকরা তাঁদের জীবন-জীবিকা জোরদার করা এবং প্রসার করায় সক্ষম হচ্ছেন। সারা দেশের স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য এই কর্মসূচিতে ১৭,৮০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ১.০৫ কোটি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে এই কর্মসুচিতে।
কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহরলাল বলেন, স্ট্রিট ভেন্ডরদের কঠোর পরিশ্রম, সংগ্রাম এবং অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০-তে পিএম স্বনিধি কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, যার লক্ষ্য শহরবাসী দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের জীবন-জীবিকা জোরদার করা।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধুমাত্র বন্ধকহীন ঋণ দেওয়া নয়, বরং স্ট্রিট ভেন্ডরদের মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং সুযোগ দেওয়া যাতে তাঁরা আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন।
কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরে মনোহরলাল জানান, গত ৬ বছরের বেশি সময়ে সারা দেশে ৭৫.৫ লক্ষ স্ট্রিট ভেন্ডর পিএম স্বনিধিতে লাভবান হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, ১.১২ কোটির বেশি বন্ধকহীন ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে এই কর্মসূচিতে সারা দেশে, এ পর্যন্ত সুবিধাপ্রাপকদের দেওয়া হয়েছে ১৭,৮০০ কোটি টাকার বেশি।
উত্তরপূর্বাঞ্চলের উল্লেখ করে মনোহরলাল বলেন, এই অঞ্চলে ২.৫৯ লক্ষের বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে ৪৩০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে স্ট্রিট ভেন্ডরদের।
বিশেষ করে ত্রিপুরা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ৯৩০০-র বেশি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে এই রাজ্যে এবং প্রায় ১৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সুবিধাপ্রাপকদের এই কর্মসূচিতে।
মনোহরলাল এও বলেন, পিএম স্বনিধির মাধ্যমে এই প্রথম কয়েক লক্ষ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং স্বীকৃত অর্থনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ফলে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং আত্মনির্ভরতার পথ তৈরি হয়েছে।
পিএম স্বনিধি কর্মসূচিতে ৩৪.৮১ লক্ষ মহিলা স্ট্রিট ভেন্ডরের ক্ষমতায়ন হয়েছে। সারা দেশে মহিলা স্ট্রিট ভেন্ডরদের ৫১.৮৪ লক্ষ ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ৫৫ লক্ষ স্ট্রিট ভেন্ডর ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও এই কর্মসূচির জন্য গড় সুবিধাপ্রাপকদের বার্ষিক আয় ২০% বেড়েছে। স্ট্রিট ভেন্ডরদের ৩০%-এর বেশি এই কর্মসূচির ঋণ ছাড়াও অন্য ঋণের সুযোগ নিতে সক্ষম হয়েছেন।
