ওয়েব ডেস্ক; ৬ জুন : কেন্দ্রীয় রেল, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এদিন পূর্ব ভারতে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার ও চর্চার প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI), কলকাতা পরিদর্শন করেন। বৈষ্ণব এসআরএফটিআই-এর চ্যান্সেলর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে শিক্ষা মন্ত্রক দ্বারা ‘ডিস্টিংকট ক্যাটিগরি’ বা স্বতন্ত্র বিভাগের অধীনে ‘ইনস্টিটিউশন ডিমড টু বি এ ইউনিভার্সিটি’ (বিশ্ববিদ্যালয় সমতুল্য প্রতিষ্ঠান)-এর মর্যাদা লাভ করেছে।

ডিমড-টু-বি-ইউনিভার্সিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় সমতুল্য মর্যাদা পাওয়ার পর এটি চ্যান্সেলরের প্রথম সফর।

বৈষ্ণব কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের মূর্তিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর সফর শুরু করেন, যাঁর নামানুসারে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের গুরুত্বকে পুনশ্চ নিশ্চিত করে তিনি ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি ছাতিম গাছের চারা রোপণ করেন।

এই উপলক্ষ্যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসাবে আয়োজিত একটি সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন। এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী, অনুষদ (ফ্যাকাল্টি) সদস্য এবং কর্মীদের দ্বারা তৈরি আলোকচিত্র এবং চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে, যা পরিবেশগত বিষয়বস্তু এবং এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশকে তুলে ধরেছে।

সফর চলাকালীন, বৈষ্ণব ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন বিভাগের অধীনে একাডেমিক, প্রযুক্তিগত এবং সৃজনশীল কার্যকলাপে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কিভাবে কাজ করছেন তা পর্যবেক্ষণ করেন।

চ্যান্সেলর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং একাডেমিক ও ক্যাম্পাস সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের উত্থাপিত সমস্যা ও উদ্বেগের কথা শোনেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি সময়সীমাবদ্ধ উপায়ে সমস্যাগুলি সমাধানের নির্দেশ দেন এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, দ্রুত সমাধানের সুবিধার্থে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন।

বৈষ্ণব ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী দ্বারা নির্মিত নির্বাচিত কিছু ছায়াছবিও দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রদর্শিত সৃজনশীলতা, কাহিনী বিন্যাসের ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শৈল্পিক উৎকর্ষের প্রশংসা করেন।

পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠানের ফ্যাকাল্টি সদস্য, পদাধিকারী এবং কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মিডিয়া শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মন্ত্রীর এই সফরটি চ্যান্সেলর এবং এসআরএফটিআই-এর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আশাব্যাঞ্জক মতবিনিময়ের একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। এটি উচ্চশিক্ষা এবং চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মিডিয়া স্টাডিজে উৎকর্ষের প্রসারে ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতিকে আরও একবার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সিনেমাটিক এবং মিডিয়া শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসাবে, এসআরএফটিআই সৃজনশীল প্রতিভাকে লালন করতে এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান মিডিয়া ও বিনোদন ব্যবস্থায় অবদান রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *