ওয়েব ডেস্ক; ২৬ জুন : তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঝাড়খণ্ডের এক কিশোরীকে মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়েতে ভর্তি করা হলে প্রথমে চিকিৎসকদের ধারণা ছিল তিনি গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরও তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকরা বিষয়টি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন। পরে জানা যায়, তিনি মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামের একটি বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত, যার জটিল রূপ মায়াস্থেনিক ক্রাইসিস তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন মণিপাল হসপিটালস কলকাতার পালমোনোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. দেবরাজ যশ এবং মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বৈভব শেঠ।

গত মে মাসে একটি রেল হাসপাতাল থেকে ওই কিশোরীকে মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়েতে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে আনার সময় তিনি গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। প্রাথমিক উপসর্গ এবং সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকদের মনে হয়েছিল তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। সেই অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়।

এরপর চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেন, সিটি স্ক্যানে ফুসফুসে যে পরিমাণ সমস্যা দেখা যাচ্ছে, রোগীর শারীরিক অবস্থা তার তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর। ফুসফুসে ব্যাপক ক্ষতি না থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। এই অসঙ্গতি চিকিৎসকদের অন্য কোনও কারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বাধ্য করে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায়, রোগীর শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাঁর নড়াচড়ার ক্ষমতাও কমে গেছে। তখন চিকিৎসকরা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস এবং গিলিয়ান-বারে সিনড্রোমের মতো স্নায়বিক রোগের সম্ভাবনা বিবেচনা করেন। বিভিন্ন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসজনিত মায়াস্থেনিক ক্রাইসিসে আক্রান্ত। মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস একটি বিরল রোগ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণে দেখা দেয়। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ু ও পেশির মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পেশিগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। সাধারণত চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া বা হাত-পায়ে দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশিগুলিও আক্রান্ত হতে পারে। তখন মায়াস্থেনিক ক্রাইসিস দেখা দেয়, যা জীবনসংকট তৈরি করতে পারে এবং রোগীকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে ডা. দেবরাজ যশ বলেন, “রোগীকে যখন আমাদের কাছে আনা হয়, তখন তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটি নিউমোনিয়ার মতোই মনে হচ্ছিল। কিন্তু খুব দ্রুত তাঁর অবস্থার অবনতি এবং সিটি স্ক্যানের ফলাফলের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অসামঞ্জস্য আমাদের অন্য কারণ খুঁজতে বাধ্য করে। শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যর্থতার কারণ যদি শুধুমাত্র ফুসফুসের সমস্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা না যায়, তাহলে স্নায়বিক কারণগুলিও বিবেচনা করা জরুরি। কারণ শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশিগুলিও আক্রান্ত হতে পারে। দ্রুত সন্দেহ করা এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগই এই জটিল পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিতে সাহায্য করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed