ওয়েব ডেস্ক; ৯ জুলাই : এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অনিশ্চয়তার মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি, সুস্পষ্ট কৌশল এবং শক্তিশালী তৃণমূল স্তরের পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, জুন মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৩৩% হলেও জুলাই মাসে মৌসুমী পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সামগ্রিক ঘাটতি কমে ২৪%-এ দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে দেশের বিভিন্ন অংশে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় বৃষ্টিহীন জেলার সংখ্যা ২৬২ থেকে কমে ১৭৮-এ দাঁড়িয়েছে।

উচ্চ-পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর নতুন দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে চৌহান বলেন, কেন্দ্র মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, বিহার, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। জুলাই মাসে বৃষ্টিপাতের গতি আরও বাড়বে, যার ফলে খরিফ শস্য বপনের কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ৩৫০.৮৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে খরিফ শস্য বপন সম্পন্ন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯১.৯৫ লক্ষ হেক্টর কম। তিনি বলেন, দেরিতে বর্ষা আসার প্রভাব বিশেষ করে সয়াবিন এবং তুলা চাষের উপর পড়েছে। কৃষকদের ভুট্টা, বাজরা এবং মুগের মতো স্বল্পমেয়াদী ও কম জল-নির্ভর ফসল চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চৌহান বলেন, সরকার এপ্রিল মাসেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের সহযোগিতায়, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল এবং অনেক আগেই রাজ্য সরকারগুলির কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জুন মাসে পরিচালিত ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-এর অংশ হিসাবে, দেশজুড়ে ১.২৪ লক্ষেরও বেশি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ৮০ লক্ষেরও বেশি কৃষকের কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বীজ বপন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে, সরকার প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কুইন্টালের একটি জাতীয় বীজ ভান্ডার বজায় রেখেছে, যা সব পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত বীজ পাওয়া নিশ্চিত করে। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ৩০ জুনের মধ্যে পাওয়া ১.১৪ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ৯৪,০০০-এরও বেশি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

চৌহান বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার আওতায় কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।

সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে চৌহান বলেন, এল নিনোর আশঙ্কার প্রেক্ষিতে একটি ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এল নিনো মনিটরিং সেল, ক্রপ ওয়েদার ওয়াচ গ্রুপ, রাজ্য-স্তরের কন্ট্রোল রুম এবং মনোনীত কর্মকর্তারা ক্রমাগত বর্ষার অগ্রগতি, ফসল বপন, ফসলের অবস্থা এবং বাজারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সরকার কেবল পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণই করছে না, খরিফ মরশুমে কৃষকরা যাতে সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা পান সেজন্য সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *