যা এতদিন পর্যন্ত দেশের বিধানসভা নির্বাচনে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিকে পেছনে ফেলেছে।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ভোট। সেই ভোট আসলে পাড়ায় রকে আলোচনার শীর্ষে থাকে কোন রাজনৈতিক দল এগিয়ে, কেই বা পিছিয়ে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দল গুলিও নিজের নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
কিন্তু সেই আলোচনার মাঝেই চোখের সামনে থেকে বেআইনি জিনিস উপহারের মাধ্যমে ভোট কেনার একটি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
নির্বাচন কমিশনের সদ্য প্রকাশিত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিসংখ্যান দেখে কমিশন নিজেই হতবম্ব হয়ে গেছেন। যেকোনো নির্বাচনের আগেই কমিশন এই সমস্ত বেআইনি জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে থাকে। এই প্রথম ভারতের কোন বিধানসভা নির্বাচনে এত বড় অংকের বেআইনি জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বেআইনি জিনিসের আর্থিক মূল্য ছাড়িয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা।
গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ ৪ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে। তারপর থেকেই নির্বাচন কমিশন এই সমস্ত বিধানসভা অঞ্চলের জন্য পাঁচজন বিশেষ ব্যয় অবজারভার তার সাথে ৩২১ জন সাধারণ অবজারভার নিয়োগ করেন। কমিশন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি গুলোর সাথে মিটিং করেন। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ব্যয় অবজারভার হিসাবে বি মুরলি কুমারকে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব দেয়।
নির্বাচন ঘোষণা হবার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাজেয়াপ্ত জিনিসপত্রের মূল্যায়ন করতে গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৩০০ (১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) কোটি টাকা বেশি অর্থমূল্যের বেআইনি জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে নগদ রয়েছে ৫০.১১ কোটি, বাজেয়াপ্ত করা মদের অর্থ মূল্য ৩০.১১ কোটি টাকা, ড্রাগ উদ্ধার হয়েছে ১১৮.৮৩ কোটি টাকার, ধাতব ও জিনিস যেমন সোনা রুপা উদ্ধার হয়েছে ১২.০৭ কোটি টাকার, এবং অন্যান্য জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে ৮৮.৩৯ কোটি টাকার।
পশ্চিমবঙ্গে সবেমাত্র চার দফা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, আগামীকাল ১৭ ই এপ্রিল পঞ্চম দফার নির্বাচন। এখনো বাকি আরো তিনটি দফা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে যদি ৩০০কোটি টাকা মূল্যের বেআইনি জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় তাহলে আগামী তিন দফায় সেই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা নিয়ে কমিশন কিন্তু বেশ চিন্তিত। উল্লেখ্য ২০১৬ সালের যেখানে যেখানে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল তাতে সবকিছু নিয়ে মোট বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ২২৫.৭৭ কোটি টাকা মূল্যের বেআইনি জিনিস।
আগামী তিন দফায় এই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা বলে দেবে নির্বাচনের শেষ দফায়।