গত ১২ ই জুলাই দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীনে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ১ জন মহিলা সহ ৫ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে । গ্রেপ্তার হওয়া দের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ১জন ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার চেষ্টা করছিলো এবং একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ২জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয় ।

ওই দিন সীমান্ত চৌকি পানিতার, ১৫৩ ব্যাটেলিয়ন , সেক্টর কলকাতা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেসব পেট্রোলিং পার্টিকে সতর্ক করে দেওয়া হয় । কিছু সময় পরে ডিউটি রত জওয়ানরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করা ৪ থেকে ৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে। সাথে সাথে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ধাওয়া করে, যার মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সফলতা লাভ করে । গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ:-
i) মোহাম্মদ দীপন সনাই (বয়স ১৮ বছর), পিতা- মোহাম্মদ সামসুর সনাই, গ্রাম- হরি নগর, ডাকঘর – হাতিয়ারডাঙ্গা , থানা – কোয়রা, জেলা – খুলনা, বাংলাদেশ।
ii) হাবিবুর রহমান, (বয়স ৩২ বছর), পিতা – আফতাফ রহমান, গ্রাম- হরি নগর, ডাকঘর – হাতিয়ারডাঙ্গা, থানা -কোয়রা, জেলা – খুলনা, বাংলাদেশ।
iii) মোহাম্মদ আবু শাহীন সরদার, (বয়স ২৪ বছর), পিতা – আজিজুল সরদার, গ্রাম – চিলিডাঙ্গা, ডাকঘর – পাইথিলি, থানা – আশাশনি, জেলা – সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
iv) অরিন্দর মণ্ডল, (বয়স ৩৫ বছর), পিতা – দেবব্রত মণ্ডল, গ্রাম – দেহা, থানা – মেমারি, জেলা – বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর রেহমান জানিয়েছে যে সে ভারতে কাজের সন্ধানে বাংলাদেশী দালাল উত্তম মন্ডলের (বড়তলা, ভোমরা) সহায়তায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলো এবং সীমান্ত পেরোনোর জন্য বাংলাদেশী দালালকে ২৯ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিয়েছিলো । তারপরে সে হায়দরাবাদে গিয়েছিলো যেখানে তার ভাই দিপেন সনাই ইতিমধ্যে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলো । কিছুদিন আগে সে পরিবারের সাথে দেখা করতে বাংলাদেশে গিয়েছিলো এবং আজ পরিবারের সাথে দেখা করার পরে আবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা তাকে পথে ধরে ফেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোহাম্মদ আবু শাহিন সরদার বলেছে যে সে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে এসেছিলো এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার হারোয়া গ্রামে বাস করা শুরু করে । সে জানিয়েছে যে সে হারোয়ায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতো । ৫ মাস আগে সে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে বাংলাদেশে গিয়েছিলো এবং ফিরে ভারতে আশার সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন অরিন্দন মণ্ডল জানিয়েছে যে সে একজন ভারতীয় নাগরিক। এক মাস আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে গিয়েছিলো । সে বাংলাদেশে তার দিদিমার শেষকৃত্যের জন্য গিয়েছিলো, যেখানে সে তার মামার বাড়িতে (টিনুকাঠি ,থানা – কোয়রা , জেলা – খুলনা , বাংলাদেশ)থাকতো । আজ সে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসছিলো কিন্তু রাস্তায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে।

১১ই জুলাই, বিকাল আনুমানিক ০৬ টা ১০ এর দিকে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকায় নিযুক্ত করা হাকিমপুর ও আমুদিয়া ১১২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা দু’জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় :-
i) মোমিনা খাতুন, গ্রাম- শঙ্কর কাঠী, পোস্ট-গোবিন্দপুর, জেলা- শাতখীরা (বাংলাদেশ)।
ii) মনোয়ার হুসেন, গ্রাম- মাগুরা, ডাকঘর + জেলা- শাতখীরা (বাংলাদেশ)।

জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ার হুসেন প্রকাশ করেছে যে সে চার মাস আগে একজন বাংলাদেশী দালাল আনিশ হুসেনের সহায়তায় কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে এসেছিলো এবং ভারতে আসার পরে সে দেব হোটেল বাসিরহাটে কিছুদিন শ্রমিকের কাজ করেছিলো এবং আজ (১১ জুলাই) বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলকিন্তু বিএসএফ তাকে গ্রেপ্তার করে । ধরা পড়ে যাওয়া আরেক বাংলাদেশী মোমিনা খাতুন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে এক বছর আগে সে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলো । ভারতে আসার পরে সে ধনবাদে (ঝাড়খণ্ড) এ থাকা তার মেয়েকে দেখা করতে গিয়েছিলো এবং সে সেখানেই থাকছিলো । আজ (১১ জুলাই)সে যখন বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলো তখন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে তাকে বিএসএফ ধরে ফেলে ।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্মন্ধিত পুলিশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার বিএসএফ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যার ফলে অনুপ্রবেশকারীরা এই ধরনের কাজ করতে অসুবিধার সন্মুখি হচ্ছে। তাদের ভিতরে অনেক কে ধরা হচ্ছে এবং আইন অনুসারে শাস্তিও পাচ্ছে।