রাজকুমার শেখ
মনের আকাশ পর্ব ১
আমাদের জুয়েলারিতে সালামতদা একটি আংটি বানাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগ মতো আপনাকে জানাতে পারিনি। যদি আপনি নেন তাহলে ভালো হয়। রেশমি কেমন চমকে ওঠে। তার জন্য আংটি বানাতে দিয়েছিল? ওর মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয় না। ছেলেটি ওকে চিনল কি ভাবে? তবে কি ও ওর শ্বশুর বাড়িতে দেখেছে? হতে পারে। ছেলেটি চলে গেল। জুয়েলারির ঠিকানাটা বলে যায় যাবার সময়। ওর বুকটা ধক ধক করছে। সে যেন এ ঘরের ফুলের খুশবু নিতে পারছে না। বুকের ভেতর কেমন একটা জ্বলন শুরু হয়েছে। বিয়ে বাড়ি এখন কিছুটা শান্ত। যে যার মত চলে গেছে। রাতের চাঁদটা এখন জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে। রেশমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। সালামত রাত জেগে চাঁদ দেখতে ভালোবাসতো। সে যে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে তা ও স্বপ্নেও ভাবেনি। নাজিম ওকে ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে বাধ্য করল। ওর দূর সম্পর্কের আত্মীয় নাজিম। বহু বছর ধরেই ওদের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক। সালামত চলে যাবার পরেই নাজিম পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। সময় দিত ওকে। নাজিম শেষমেস বিয়েতে রাজী করায়। ওদের বাড়ির সবার চাপ ছিল। এত বড় একটা জীবন সফরে একজন সঙ্গী না হলে সে জীবন কাটাবে কি করে? নাজিমকে ঠেলতে পারেনি। অনুমতি দিয়ে ছিল রেশমি নিজে। আজ চাঁদটা যেন ডুবতে চাইছে না। তার সমস্ত স্মৃতি নিয়ে সে আকাশে ভাসছে। সেও আজ ঘুমোতে পারবেনা। নাজিম কখন আসবে কে জানে!
