মমতা দে
ছোটবেলায় আমি আমের মিষ্টি আচার খেতে খুব ভালোবাসতাম। একবার মা রোদ থেকে আচারের বোতল তুলে এনে সবে উঁচু তাকে তুলে রেখেছে। হরলিক্সের বড় কাঁচের বোতলের এক বোতল আচার। মা বোধহয় রান্নাঘরে গেছিল। এর মধ্যেই বোতল টেনে নামাতে গেছি আমি। যথারীতি হাত থেকে মেঝেতে পড়ে বোতল চৌচির! আমি হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। মা ছুটে এসে আচারের বোতলের অবস্থা দেখে কী কান্না! কিন্তু আমাকে মা সেদিন একটুও মারেনি। আজ এই বয়সে পৌঁছে সেদিনের মা এর জন্যে খুব দুঃখ হয় আমার। গরমের দুপুরগুলোও অদ্ভুত মায়া জড়ানো ছিল। সন্তোষপুরের বাড়িতে, সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত, রতনকাকুদের আমগাছে একটা কোকিল ডাকত। ডেকেই যেত। তার একটু পড়েই ঘন্টা বাজিয়ে টিনের বাক্স নিয়ে হাজির হত শোনপাপড়িওয়ালা। কোনদিন আইসক্রিম। মানে আইসক্যান্ডি। ঠাকুমার থেকে পয়সা ম্যানেজ করে কিনতাম। অনেকদিন বিকেলে ঢাকুরিয়া লেকের গায়ে সাফারি পার্কে যেতাম। সেখানে তখন ময়ূর, বাঁদর, খরগোশ আর রঙিন মাছ ছিল। খড়ের ছাউনি দেওয়া বিশাল বসবার জায়গা। আর ছিল নানান রঙের কলাবতী ফুল। সেই সময়ে পার্কের সামনে সাদার্ন এভিন্যু কৃষ্ণচূড়ায় রঙিন আর বকুলের গন্ধে আবিষ্ট হয়ে থাকত। সেই থেকে আজও পর্যন্ত সাদার্ন এভিন্যু আমার প্রিয় রাস্তা। লেকের জ্বলে ঝুপ করে সন্ধ্যা নামত। তারপর বাড়ি ফিরতাম। সেদিনের সেই শিশুর চোখে গরমকালেও যেন বসন্তের বিদায় ঘটত না।
