তরুনার্ক লাহা
জীবনে কোনোদিন জুয়া খেলেনি, সাহসও নেই। ভাবে যদি হেরে যায়। পরক্ষণে মনে হয়
জিতলে সব ধার শোধ করে দিতে পারবে। আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরবে। নতুন ব্যবসাও শুরু করতে
পারবে। সুজয় একটা দান দেয়। পেল না, হাতে এখন একহাজার। এটা গেলে কেলেঙ্কারীর শেষ থাকবে না।
আর না। চলেই যাচ্ছিল। একটা লোক হাঁক পাড়ে— এই যে দাদা আপনি এখানে দান
দিন। আমি সিওর আপনি পাবেন। আপনি পনেরশ ফেলুন। – আমার হাতে এখন একহাজার আছে। – আপনি মুখে বলুন না পেয়ে যাবেন।
দোনামনা করে পনেরশ বলে দিল। যে লোকটা ঘুটি চালছিল সে বলল- এখানে টাকা
ফেলুন চার হাজার পেয়ে যাবেন।
সুজয় টাকাটা রাখতেই লোকটা কুড়িয়ে নিল। বলল, মুখের কথার কোনো দাম নেই। সুজয়ের ভীষণ রাগ হয়। কিছু বলতে যাচ্ছিল। বুঝতে পারে পাশের শুভাকাঙ্খীরা হাওয়া। নিজেকে মাকড়শার জালে আটকানো পোকার মতো মনে হয়। বেগতিক দেখে পৈত্রিক প্রাণটা নিয়ে সেখান থেকে সরে পড়ে।
নিঃস্ব সুজয় মাঠের এককোণে চুপচাপ বসে থাকে। রিক্তা যদি জানতে পারে মুখে কালমেঘের তিক্ততা। চোখের সামনে একটা কালো পরদা। একটু সামলে বাড়ির পথ ধরে। রিক্তার সামনে দাঁড়াবে কি করে? মুখের তেতো ভাবটা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। রিক্তা স্বামীর পথ চেয়ে অপেক্ষা করে আছে। কখন ফিরবে সুজয়?
