ড. বিপ্লব মন্ডল
এমন সময় ঘাটের চারপাশটা বেশ সুনশান। হাল্কা শীত পড়েছে। এখন প্রায় রাত্রি আটটা হবে। মাসের দুটো রবিবার ওরা তিনজন নিয়ম করে মুক্তোকেশী ঘাটে বসে। গল্প করে পরিবার পরিজন নিয়ে, যার যার কলেজ আর স্কুল নিয়ে। এখনও অর্ণব আসেনি। নীলাদ্রি বলল, সিগারেট দে শুভদীপ বলল— আর খাস না। একটু দূরেই রাস্তায় দুজন অটোওয়ালা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেছে। তাদের মুখের ভাষা এই নির্জন পরিবেশকে নিষ্ঠুরভাবে ভেঙে এক বৈপরীত্য নির্মাণ করে গেল। -আচ্ছা শুভ, এদের জন্য অ্যান্টি খিস্তি ডিজাইন – কম্পালসরি করা উচিৎ কি বলিস!— নীলাদ্রি বলল। অ্যান্টি খিস্তি ডিভাইস।। -তুই না!! – সরি গুরু, আজ লেট হয়ে গেল। ডিঙ্গোকে অ্যাবাকাস থেকে নিয়ে আসতে হল-পাশে এসে বসল অর্ণব। –কেন মধুমিতা? নীলাদ্রি বলল। – সে আর বলিস না, সানডেগুলো যেহেতু আমি বসে বসে খাই তাই এরকম একটা একটা করে ডিউটি অ্যাড করছে আরকি! –ও বাবা, তাই নাকি? আর সেই ব্যাপারটা মিটল? —না, রে, এসব, মেটার নয়- আক্ষেপের সুরে বলল অর্ণব ‘আর হ্যাঁ ওর ধারণাটা কত নীচ শুনলে তোর ও মরতে ইচ্ছা করবে, জানিস? -কেন কি হয়েছে? শুভ জিজ্ঞাসা করলো। -শোন, এসব মুখে আনতেও খারাপ লাগে জানিস! আয়াকে বলে রেখেছে মেয়েকে যেন নীচের ঘরে। না নামায়। আসলে সেটা নিয়ে মা-বাবার এতদিন আপত্তি ছিল। আমিও ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ডিঙ্গো, স্কুল বা পড়ার বাইরে বেশিরভাগ সময়টাই নীচে থাকে হঠাৎ মেয়ের ক্ষেত্রে কি এমন হল। তিন, বছরের মেয়ে- ওর পড়াশোনার ডিস্টারভেন্সের ব্যাপারও নেই। তো, ওর ব্যাখ্যা— মেয়েছেলে’ তো ফিজিক্যালি অ্যাবিউসড হতে পারে। এটাও এরা ভাবে! কতটা পিকিউলিয়ার ভেবেছিস্? –ছি ছি! কাকু কাকিমাকে নিয়ে এরকম ভাবতে পারে?
শেষাংশ পরবর্তী পর্বে…..
