দেবাঞ্জন দাস
তিনিও আপনার আমার মতন একজন সাধারন মানুষ। রুটিরুজির টানে সকাল হলেই কাজে বেরিয়ে যান। সারাদিন কাজের পর পারিশ্রমিক না পেলে তার হাঁড়িতে ভাত চড়বে না।
গতবছর মহামারীর শুরুর দিকে তার কাছ থেকে করোনা কেড়ে নিয়েছিল স্ত্রীকে। স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তার কাছে পড়ে আছে তিন বছরের দুজন যমজ শিশু এবং বিয়ের সময় যা দিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন সেই মঙ্গলসূত্রটি।
গতবার শুধু তিনি স্ত্রীকেই হারাননি, হারিয়েছিলেন তার কাজকে। গত বছর থেকেই এদিক ওদিক দিনমজুরি বা কিছু না কিছু কাজ করেই দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি এবং তার দুই সন্তান।
সকালে কাজে যাওয়ার সময় তার পুরনো, ধ্বসে যাওয়া সাইকেলটির সামনে এবং পেছনে তার দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তার কাজের জায়গাতেই কোন এক জায়গায় দুই ভাই-বোন নিজের মনে খেলা করতে থাকে। সন্ধ্যেবেলায় কাজ শেষে তার সমগ্র জগতকে নিয়ে তিনি তার টালির ঘরের দিকে ফিরে আসেন। ফেরার সময় তার দুই সন্তানকে নানা ধরনের গল্প বিভিন্ন অজানা কৌতুহলী জিনিস শোনান। এভাবেই দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে ওনার।
চারিদিকে রাজনৈতিক-সামাজিক সমস্ত ঘটনার সম্মুখীন হয়ে তার যমজ দুই সন্তানকে নিজের জগৎ করে নিয়ে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে নিচ্ছেন ওই মানুষটি।
